
বাজারে বিভিন্ন ধরনের চাল পাওয়া যায় চিকন, মোটা, ঝরঝরে বা আঠালো। অধিকাংশ মানুষ স্বাদ, দাম বা অভ্যাসের ভিত্তিতে চাল নির্বাচন করলেও, পুষ্টিগুণের বিষয়টি অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায় সঠিক চাল বেছে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুষ্টিবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চালের বাইরের স্তরে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে, যেমন ভিটামিন বি (থায়ামিন, নায়াসিন, পাইরিডক্সিন), জিংক, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ফসফরাস। তবে চাল যত বেশি পরিশোধিত হয় তত বেশি এই পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। সেই কারণে তুলনামূলকভাবে মোটা চালে পুষ্টির পরিমাণ বেশি থাকে।
মোটা চালে আঁশ বা ফাইবার বেশি থাকায় এটি ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে না গিয়ে ধীরে বাড়ে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পাশাপাশি এটি অতিরিক্ত ক্ষুধা কমায়, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে চিকন চাল দ্রুত হজম হয় এবং এতে আঁশ কম থাকায় রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা লাগে, যা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা বাড়িয়ে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে।
সবশেষে বলা যায়, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য মোটা চাল বেশি উপকারী। তবে যাদের হজমে সমস্যা আছে বা নরম খাবারের প্রয়োজন, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকন চাল খেতে পারেন।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন