
একই পরিবারের একাধিক সদস্যের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন নয়। বাংলাদেশে জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান—এই তিনজনকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। তবে ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে দেখা যায়, বিষয়টি নিয়ে জনপরিসরে নানা দাবি থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিও রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৮১ সালে নিহত হন।
তার মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি মোট তিন দফা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন (১৯৯১–১৯৯৬, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬, ২০০১–২০০৬)।
তারেক রহমান দীর্ঘদিন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং সেখানেই অবস্থান করছেন। বর্তমানে (ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত) তিনি বাংলাদেশের কোনো সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত নন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন—এমন কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজনীতিতে পারিবারিক ধারাবাহিকতা বিশ্বব্যাপী দেখা গেলেও প্রতিটি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা আলাদা। বাংলাদেশেও জিয়া পরিবার দীর্ঘদিন রাজনীতিতে প্রভাবশালী হলেও বর্তমানে সাংবিধানিক পদে কে আছেন—সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যই চূড়ান্ত বিবেচ্য।
মন্তব্য করুন