রাজধানীসহ সারা দেশে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যানজট ও মানসম্মত গণপরিবহন সংকটে ভোগা ঢাকার যাত্রীদের জন্য দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে এই সেবা।
তবে এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মোটরসাইকেল ও চালকের সংখ্যা। দুর্ঘটনাপ্রবণ এই বাহনে ক্রমেই বাড়ছে দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনাও।
গত ২৩ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজধানীসহ সারা দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৮৮ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হেলমেট না পরার কারণে ঘটে। তবে বর্তমানে হেলমেট থাকা সত্ত্বেও দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে, যার মূল কারণ হচ্ছে নিম্নমানের হেলমেট ব্যবহার।
বর্তমানে রাইড শেয়ারিং-এর ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীরা যে হেলমেট ব্যবহার করেন তা নিম্নমানের। এটি শুধু মামলা ও পুলিশি ঝামেলা এড়ানোর ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাইড শেয়ারিং সময় চালকদের অবশ্যই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানসম্মত হেলমেট সরবরাহ করতে হবে। মোটরসাইকেল-চালকদের হেলমেটের মান নির্ধারণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে বিআরটিএ অনুমোদিত স্ট্যান্ডার্ড হেলমেট ব্যবহার করতে হবে।
রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলোও নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত কার্যক্রম চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম উবার বাংলাদেশে চালক ও যাত্রীদের মানসম্মত ও টেকসই হেলমেট সরবরাহ করে হেলমেট ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে। অ্যাপের মাধ্যমে তারা নিয়মিত সচেতনতা প্রচারও চালাচ্ছে।
মন্তব্য করুন