সিপিএন ডেস্ক:
১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:০২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ২৫০ জন

সাহসিকতা ইসলামের অনন্য নির্দেশনা

সাহসিকতা উন্নত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। সমাজে মাথা উঁচু করে সসম্মানে বাঁচতে হলে সাহসিকতার সৌরভে নিজেকে সুরভিত করার বিকল্প নেই। কোরআন-সুন্নাহ মুমিনকে সাহসী হতে উৎসাহিত করেছে। কোরআন মাজিদের বিভিন্ন আয়াতে সাহসিকতার অনুপম শিক্ষামালা বিধৃত হয়েছে।

সাহসিকতার বিমল পাঠে উদ্ভাসিত সে আয়াতগুলো থেকেই পাথেয় গ্রহণ করে একজন মুমিন। কোরআন মাজিদে আল্লাহতায়ালা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও মুমিনদের সাহসিকতার গুণে গুণান্বিত হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘সুতরাং যারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে বিক্রি করে, তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করুক। যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবে, অতঃপর নিহত হবে বা জয়যুক্ত হবে, (সর্বাবস্থায়) আমি তাকে মহাপুরস্কার দান করব।’ (আন-নিসা-৭৪)

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের পরতে পরতে সাহসিকতার বিমল সৌরভ ছড়ানো।

তাঁর প্রতিটি কথায়-কাজে সাহসিকতা ও বীরত্বের দ্যুতি ঠিকরে পড়ত। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জীবনপাতায় দৃষ্টি বোলালে এ কথা দিবালোকের ন্যায় প্রোজ্জ্বল হয়ে ওঠে যে যাপিত জীবনে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, বিপদ-আপদে দৃঢ় মনোবলের অধিকারী, প্রবল বিশ্বাসী এবং অসীম সাহসের অধিকারী। এ জন্যই আল্লাহ তায়ালা তাঁকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘(হে নবী!) আপনি আল্লাহর পথে লড়াই করুন। আপনার ওপর নিজের ছাড়া অন্য কারো দায়ভার নেই এবং মুমিনদের সাহস দিতে থাকুন।

আরও পড়ুন

’ (সুরা : নিসা-৮৪)। শৈশব থেকেই বীরত্ব ও সাহসিকতা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উন্নত চরিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছিল। সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি ‘ফিজার’ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যখন তাঁর বয়স পনেরোও পেরোয়নি। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া-২:২৮৯)
এ ছাড়া নির্জন মরুভূমির সুউচ্চ পর্বতের হেরা গুহায় দীর্ঘদিন তিনি একাকী অবস্থান করেছেন। (আস সিরাতুন নাবাবিয়্যা, ইবনে কাসির- ১:৩৮৫)।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। বিপদাপদে তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত সাহসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। মানুষের বিপদাপদে সাহসিকতার সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহসিকতার অনুপম দৃষ্টান্ত রয়েছে হাদিসের গ্রন্থাবলিতে।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, একদা মদিনায় লোকেরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু তালহা (রা.)-এর ঘোড়ায় চড়ে অনুসন্ধান করে এসে বললেন, আমি তো ভীতিজনক কোনো কিছুই দেখলাম না। আমি ঘোড়াটিকে সমুদ্রের ন্যায় (দ্রুতগতির) পেয়েছি।’ (সুনানে আবু দাউদ : ৪৯৮৮)

সাহসিকতার কি অনন্য উপমা! বিপদে-সংগ্রামে সবার আগেই তিনি এগিয়ে গেলেন। হজরত আলী (রা.) বলেন, যুদ্ধ শুরু হলে এবং সেটা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকলে আমরা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে চিন্তিত থাকতাম (না জানি তাঁর কোনো ক্ষতি হয়ে যায়)! কেননা, তাঁর চেয়ে শত্রুবাহিনীর অধিক কাছে আর কেউ যেত না। (মুসনাদে আহমাদ-১৩৪৬)

হজরত মিকদাদ ইবনে আমর (রা.) উহুদ যুদ্ধে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৃঢ়তা ও সাহসিকতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, সেই সত্তার কসম! যিনি তাঁকে সত্য নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন! তিনি যুদ্ধ করতে করতে শত্রুদের এত কাছে পৌঁছে যেতেন যে তাঁর এবং শত্রুর মাঝে শুধু এক বিঘতের ব্যবধান থাকত। তিনি একেবারে শত্রুর মুখোমুখি হয়ে যেতেন। সাহাবিরাও যুদ্ধ করতে করতে একসময় তাঁর কাছে পৌঁছে যেতেন, আবার তাঁর থেকে দূরে সরে যেত। আমি তাঁকে দেখতাম, তিনি কখনো দাঁড়িয়ে তীর নিক্ষেপ করছেন। আবার কখনো পাথর নিক্ষেপ করছেন। ফলে কাফিররা দূরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপন স্থানে অবিচল আছেন। (দালায়িলুন নুবুওয়া : ৩:২৪৬)

সেদিন (হুনায়নে) যুদ্ধের ময়দানে তাঁর চেয়ে দৃঢ় এবং শত্রুর নিকটবর্তী আর কাউকে দেখা যায়নি। (যাদুল মাআদ ৩:৯০)

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে যেমন সাহসিকতার সৌরভে নিজেকে সুরভিত রাখতেন তেমনি অন্যদেরও সাহসী হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাতেন। উম্মতকে ভীরুতা ও কাপুরুষতা থেকে আল্লাহ তায়ালার কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দিতেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করতেন— ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি কাপুরুষতা হতে…।’ (সহিহ বুখারি-৬৩৬৭)।

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়া মাখযানুল উলুম টঙ্গী, গাজীপুর

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পশ্চিমবঙ্গকে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বানাতে চায়: শুভেন্দু

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জিতল রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’

ব্রেকআপের পর প্রথম সপ্তাহে এই ৫টি কাজ অবশ্যই করবেন

ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ, থাকছে না বাংলাদেশ

নিত্যপণ্যের সঙ্গে লাগামহীনভাবে ব্যবহার্যপণ্যের দাম বাড়ানোর নেপথ্যে কারা?

বিভিন্ন দেশের কারাগারে ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রুমিন আপার মধ্যে শেখ হাসিনার ছায়া দেখা যায়: রাশেদ খাঁন

ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা বকেয়া কর পরিশোধ করতে হবে : হাইকোর্ট

ব্যালন ডি’অরে রোনালদোর গড়া ২টি রেকর্ড ভেঙে দিলেন মেসি

মাদক, হতাশা ও সুস্থ বিনোদনের অভাবে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, সহিংসতার মত বিভিন্ন অপরাধ

১০

থার্ড টার্মিনাল চালু ১৬ ডিসেম্বর, পরিবর্তন হচ্ছে না বিমানবন্দরের নাম

১১

আজ জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেবেন খলিলুর রহমান

১২

সংসদে আইন পাস, সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগ করতে পারবেন দাতা

১৩

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনের বিধিমালায় পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ

১৪

যানজট নিরসনে ঢাকার ৪ টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

১৫

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুদিনের সফরে আজ ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন

১৬

নো গ্যাস নো বিল, নো সার্ভিস নো ট্যাক্স: রুমিন ফারহানা

১৭

কারাবন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে পারবেন

১৮

সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে: জামায়াত আমির

১৯

বদলে গেছে জমির নামজারির নিয়ম, জেনে নিন নীতিমালা

২০