
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি জানিয়েছেন, তার দল এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম বলে বিশ্বাস করে।
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরেছেন গত ডিসেম্বর মাসে। প্রায় দুই দশক তিনি লন্ডনে রাজনৈতিক নির্বাসনে ছিলেন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি তারেক রহমানের মায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। তারেক রহমানের মা বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকা দলটি সম্প্রতি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়েছে। অতীতে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশকে স্থিতিশীল রাখতে আবারও যৌথ সরকার গঠনের আগ্রহের কথা জানিয়েছে জামায়াত।
তবে বিএনপির কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন হলে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা থাকবে না। তিনি বলেন, বিরোধী দল গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য, এবং জামায়াত যদি সংসদে বিরোধী দলে থাকে, তবে তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে—এটাই তার প্রত্যাশা।
বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দাবি, ৩০০ আসনের সংসদে দলটি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেতে পারে। বিএনপি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে রয়েছে তাদের মিত্ররা। যদিও নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি তারেক রহমান, তবে তিনি সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বিভিন্ন মতামত জরিপে বিএনপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন একটি জোট থেকেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই জোটে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা একটি জেনারেশন জেড রাজনৈতিক দলও রয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ে। এর প্রেক্ষাপটে চীন বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে দেশ সবচেয়ে কার্যকর অংশীদার হতে পারবে, তাদের সঙ্গেই সম্পর্ক জোরদার করা হবে—কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি পক্ষপাত নয়।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় এলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিএনপির অন্যতম অগ্রাধিকার হবে। বিনিয়োগ বাড়িয়ে ব্যবসা ও চাকরির সুযোগ তৈরি করে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কথা জানান তিনি।
শেখ হাসিনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে, তবে রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার অধিকার সবারই আছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে এবং বিএনপিও চায় তারা নিজ দেশে ফিরে যাক। তবে প্রত্যাবর্তন অবশ্যই নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করেই হতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাদেশেই থাকতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্তব্য করুন