
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হলেও এতে সাড়া মিলেছে খুবই সীমিত। সারা দেশের ৭৫টি কারাগারে থাকা প্রায় ৮৫ হাজার নিবন্ধিত বন্দির মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৫৩৮ জন, যা মোট বন্দির প্রায় ৭ শতাংশ। অর্থাৎ সুযোগ থাকলেও প্রায় ৯৩ শতাংশ বন্দি ভোটে অংশ নেননি।
কারাবন্দিরা পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতিতে ভোট প্রদান করছেন। তবে অংশগ্রহণ কম হওয়ার পেছনে দুটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে। প্রথমত, অনেক বন্দির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় তারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনই করতে পারেননি। দ্বিতীয়ত, আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের মতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক বন্দি ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটে অংশ নেননি।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে ৬ হাজার ৩১৩ জন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাদ দিলে বৈধ নিবন্ধিত বন্দির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯৪০ জন। এদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৪ হাজার ৫৩৮ জন।
ভোটগ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আরও এক দিন বাড়ানো হয়েছে। ফলে রোববারও কারাগারগুলোতে বিশেষ ভোট কার্যক্রম চলবে।
ভিআইপি বন্দিদের বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ জানান, ভোটের জন্য ৩৯ জন ভিআইপি বন্দি নিবন্ধিত ছিলেন। তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা, সাবেক সচিব, পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক রয়েছেন। তবে তারা আদৌ ভোট দিয়েছেন কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কিছু গণমাধ্যমে ভিআইপি বন্দিদের ভোট দেওয়ার খবর প্রকাশিত হলেও তা সঠিক নয় বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, নিবন্ধিত বন্দিরা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে অনলাইনের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন, যা শেষ হয় ৫ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন