নিজস্ব প্রতিবেদক:
১৫ জুন ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১৮৭ জন

কেন তারেক রহমানকে ‘ডাবল প্রায়োরিটি’ দিচ্ছে চীন?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের পর চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর প্রতি বেইজিংয়ের আগ্রহকে অনেক বিশ্লেষক ‘ডাবল প্রায়োরিটি’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। যদিও চীন আনুষ্ঠানিকভাবে কখনও এই শব্দ ব্যবহার করেনি, তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে বেইজিং বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানে ‘ডাবল প্রায়োরিটি’ বলতে দুটি বিষয়কে বোঝানো হচ্ছে— বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে দ্রুত ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ নিশ্চিত করা।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping এবং প্রধানমন্ত্রী Li Qiang শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান। একইসঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তারেক রহমানকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, বন্দর, শিল্পাঞ্চল এবং যোগাযোগ খাতে চীনের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। চীন চায় নতুন সরকারের সঙ্গেও এসব প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক এবং নতুন প্রকল্প যুক্ত হোক।

বিশেষ করে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)-এর আওতায় বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখা হয়। তাই নতুন সরকারের সঙ্গে দ্রুত আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে তিস্তা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। পাশাপাশি মংলা বন্দর আধুনিকীকরণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং শিল্প স্থানান্তরের মতো বিষয়গুলোও দুই দেশের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে চীনের অর্থনৈতিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ঢাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা বেইজিংয়ের জন্য একটি কৌশলগত প্রয়োজন। তাই নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন এবং উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্বের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

তারেক রহমানের সরকার প্রকাশ্যে ‘ওয়ান চায়না’ নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং চীনের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এটি বেইজিংয়ের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করছে সরকার, যে সুবিধা পাবেন চাকরি প্রত্যাশীরা

১

মেসির পর আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি যার গায়ে উঠবে

২

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত, লাভবান হবেন বাংলাদেশিরাও

৩

দেশের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ

৪

পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ লালনের পরিণতি ভোগ করতে হবে

৫

পুলিশে যুক্ত হচ্ছে নতুন ইউনিট, শাখা থাকবে মেট্রো, ডিভিশন ও জেলায়

৬

থানার দরজা ভেঙে বেরিয়ে গেল ২২ কিশোর

৭

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

৮

সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বেসরকারি ক্লিনিক নয়

৯

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

১০

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

১১

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

১২

মামার প্ররোচনায় বিয়ে, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মরিয়মের আত্মহত্যা

১৩

জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

১৪

২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনে প্যাকেজ মূল্য কত টাকা, আর বাকি ৪ দিন

১৫

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

১৬

দাবি যে কোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে: জামায়াত আমির

১৭

সার্ককে সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

১৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনিয়র মাদ্রাসায় পরিণত হয়েছে: ফজলুর রহমান

১৯

সাংবাদিকরা আছেন বলেই দেশে গণতন্ত্র টিকে আছে : তথ্যমন্ত্রী

২০