সরকারি গেজেটে জুলাই শহীদ ৮৪৩, নতুন আবেদন নেই,জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন তথ্য প্রচলিত থাকলেও সরকারি সর্বশেষ গেজেট অনুযায়ী স্বীকৃত ‘জুলাই শহীদ’-এর সংখ্যা ৮৪৩। একই সঙ্গে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃত আহতের সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৭০। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহীদের তালিকায় নতুন করে অন্তর্ভুক্তির জন্য বর্তমানে কোনো আবেদন তাদের কাছে নেই।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার নিহতদের ‘জুলাই শহীদ’ এবং আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রথম দফায় ৮৩৪ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে নতুন নাম সংযোজন ও কিছু নাম বাদ দেওয়ায় তালিকাটি একাধিকবার সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ গেজেট অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪৩।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিভিন্ন সময়ে মোট ৮৫৬ জনের নামে গেজেট প্রকাশ করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষে কয়েকজনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যেসব গেজেট থেকে নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেগুলোতে নতুন করে আর কোনো নাম সংযোজন করা হবে না।
তবে শহীদের তালিকায় নতুন আবেদন না থাকলেও আহতদের তালিকা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যাচাই শেষে আহতের তালিকায় আরও এক হাজারের বেশি নাম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে শহীদের তালিকাও পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হতে পারে।
এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০ হতে পারে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ইতিহাস সংরক্ষণ, ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে দ্রুত একটি নির্ভুল ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা উচিত।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল নাসের বলেন, যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে কি না, সে বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
মন্তব্য করুন