মিশরের পর্যটন নগরী শার্ম এল-শেখে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৯ ও ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট তৈরি এবং বৈশ্বিক সচেতনতা বাড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
জিএইচএআই-এর অ্যাসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট (কমিউনিকেশন) জেনিফার প্যাটারসন উদ্বোধনী সেশনে বলেন, ‘ডুবে গিয়ে মৃত্যু প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে। সাংবাদিকদের ভূমিকা নীতিনির্ধারকদের উদ্যোগ নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বিশ্বের আট দেশ অংশ নেয়ার কথা থাকলেও কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, উগান্ডা, তাঞ্জানিয়া, মিশর, ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের মোট ২০ জন অনুসন্ধানী সাংবাদিক।
কর্মশালায় ‘গ্লোবাল বার্ডেন, রিস্ক ফ্যাক্টরস অ্যান্ড অ্যাক্টরস: ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন’ শিরোনামে উপস্থাপনা দেন জিএইচএআই-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার লেক্সি বুলিক। তিনি জানান:
প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়।
মোট ডুবে মৃত্যুর এক-চতুর্থাংশই ৫ বছরের নিচের শিশু।
১-৪ বছর বয়সি শিশুদের মৃত্যুর চতুর্থ, আর ৫-১৪ বছর বয়সিদের মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ ডুবে যাওয়া।
মোট মৃত্যুর ৯২ শতাংশ ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘শিশু ও কিশোরদের ঝুঁকি মূল্যায়নের সক্ষমতা কম, পাশাপাশি সাঁতার ও পানি-নিরাপত্তা দক্ষতার ঘাটতির কারণে তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।’
কর্মশালায় আরও উপস্থাপনা হয়:
ক্রস-কাটিং ইমপ্লিমেন্টেশন স্ট্র্যাটেজিস অ্যান্ড ভিয়েতনাম কেস স্টাডি
বাংলাদেশ কেস স্টাডি
ডাটা কালেকশনের গুরুত্ব
মিশরে ডুবে যাওয়া প্রতিরোধের বাস্তব চিত্র, চ্যালেঞ্জ এবং সমন্বিত উদ্যোগ। ইজিপশিয়ান ডাইভিং অ্যান্ড লাইফ সেভিং ফেডারেশনের উপস্থাপনা।
সেশনগুলো পরিচালনা করেন জিএইচএআই-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার জিয়াং বোই, জিএইচএআই সিনিয়র প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট ক্যারোলিন ইয়াং, উগান্ডার মিডিয়া হেড অনিয়াম চার্লস, কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ লোপা ঘোষ, বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুসসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করেন সাংবাদিক ও ‘সমষ্টি’-এর নির্বাহী পরিচালক মির মাশরুরজ্জামান এবং সময় টেলিভিশনের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি আলপনা বেগম।
আয়োজকরা বলেন, ‘যথাযথ সচেতনতা, নীতিগত উদ্যোগ এবং একযোগে কাজের মাধ্যমে ডুবে মারা যাওয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। সাংবাদিকদের কাজ এ বিষয়ে বৈশ্বিক পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখবে।’
মন্তব্য করুন