সিপিএন ডেস্ক:
৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:২৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৭৪ জন

উত্তরা গণভবনে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক দেখার অপেক্ষায় নাটোরবাসী

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বাইরে বাংলাদেশ সরকারপ্রধানের একমাত্র সরকারি বাসভবন হিসেবে পরিচিত নাটোরের ঐতিহ্যবাহী উত্তরা গণভবন। অতীতে বিভিন্ন সরকারের সময় এখানে আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে একাধিকবার মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার সেখানে বসতে পারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক। এ লক্ষ্যে গণভবনের ভেতর ও বাইরের অংশে চলছে দ্রুতগতির সংস্কারকাজ।

গণপূর্ত বিভাগ উত্তরা গণভবনের উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের জন্য ২ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পায়। শুধু ভবনের অভ্যন্তরীণ সুবিধাই নয়, নিরাপত্তা জোরদারসহ উত্তরা গণভবনমুখী সড়কেও চলছে উন্নয়নকাজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এ নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা গণভবন পরিদর্শন করে প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন। বিশেষ করে গত ৮ নভেম্বর আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও চলতি সপ্তাহের ৬ ডিসেম্বর শিল্প ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের উত্তরা গণভবন পরিদর্শনের খবরে নাটোরবাসীর মধ্যে উপদেষ্টা মন্ডলীর বৈঠক নিয়ে চলছে গুঞ্জন।

সরেজমিনে উত্তরা গণভবনে গিয়ে দেখা যায়, উত্তরা গণভবনের ভেতরের সংস্কার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। উত্তরা গণভবনের চারদিকের প্রাসাদের বাইরে থাকা দীর্ঘ দিনের জঙ্গলও পরিষ্কার করা হয়েছে। উত্তরা গণভবনের মূল প্যালেস বা রাষ্ট্র প্রধানের প্রশাসনিক ভবনে নতুন এসি, নতুন পর্দা সংযোজন, ত্রুটিপূর্ণ দরজা, চেয়ার, টেবিল মেরামতের কাজ চলছে। এছাড়াও নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুরনো সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি নতুন করে উন্নতমানের ২১টি সিসিটিভি ক্যামেরা প্রতিস্থাপনেরও কাজও শেষের দিকে।

‌ এই ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের জন্য মূল ফটকের ভেতরের একটি কক্ষে এলইডি মনিটর বসানো হয়েছে। নাটোরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষরা চায়, উত্তরা গণভবনে আবারও অনুষ্ঠিত হোক সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক‌ এবং এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক।

নাটোরের শহরের বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা সাহা বলেন, বিগত বিভিন্ন সরকারের আমলে উত্তরা গণভবনে সরকার প্রধানদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা চাই অন্তর্বর্তী সরকারও তাদের একটি বৈঠক এখানে করুক। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আবারও এখানে হলে নাটোরের মর্যাদা বাড়বে, সেই সঙ্গে বাড়বে উত্তরা গণভবনের জাতীয় গুরুত্ব।

নাটোর শহরের বাসিন্দা ও অভিনয় শিল্পী বুলটন নীল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার অল্প সময়ের জন্য ক্ষমতায় থাকলেও আমরা চাই উত্তরা গণভবনে তাদের উপদেষ্টা মন্ডলীর একটি বৈঠক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইতিহাসের পাতায় তারা নাম লেখাবেন।

উত্তরা গণভবনের হিসাব রক্ষক নূর মোহাম্মদ বলেন, উত্তরা গণভবন একটি ঐতিহাসিক স্থান এবং স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। শুরু থেকে বিভিন্ন সরকার প্রধানরা এখানে বৈঠক করেছেন। এটার গুরুত্ব কখনোই কমে যায়নি। বর্তমান উপদেষ্টা মন্ডলীর একটি বৈঠক এখন সময়ের চাহিদা।

এদিকে উত্তরা গণভবনে উপদেষ্টা পরিষদের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও তিনি জানান, নিরাপত্তা জোরদার, অভ্যন্তরীণ ত্রুটি সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধন এসব কাজ এখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

আসমা শাহীন বলেন, প্রতিবছর অনেক পর্যটকসহ বিভিন্ন সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষরাও উত্তরা গণভবন ভিজিট করতে আসেন। তাদের মতামত ও জেলা প্রশাসনের যেটা মনে হয়েছে যে, এখানে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তার প্রেক্ষিতে এখানে একটি বড় বরাদ্দ পাওয়ার প্রেক্ষিতে সংস্কার কাজ চলছে। পরিখা ও তার পেছনে জঙ্গল পরিষ্কার করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার যে অপ্রতুলতা ছিল নিরাপত্তা জোরদারের জন্য সিসিটিভির সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ মুঠোফোনে বলেন, সরকারের তরফ থেকে উপদেষ্টা মন্ডলীর বৈঠকের প্রোগ্রাম হলে বিভাগীয় দপ্তর থেকে দেখভাল করা হবে। তখন অবশ্যই তা জানানো হবে‌।

গত শনিবার উত্তরা গণভবন পরিদর্শনে এসে শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, আমাদের কাজ হচ্ছে উত্তরা গণভবনকে তৈরি রাখা। সভা (উপদেষ্টা মন্ডলীর সভা) কখন হবে তার নির্ধারিত তারিখ নাই। তবে প্রত্যেক সরকারের আমলেই রেওয়াজ অনুযায়ী সাধারণত একটি বা আরো বেশি সভা হয়। দীর্ঘদিন উত্তরা গণভবন অবহেলিত ছিল আমরা এটাকে তৈরি করলাম।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিঘাপতিয়া রাজবাড়ির নাম পরিবর্তন করে দেন উত্তরা গণভবন। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয় এখানেই। পরে বিভিন্ন সরকারও আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে এখানে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছে। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান, পরবর্তীতে এরশাদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারাও এখানেই বৈঠক করেন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকার একবার বৈঠক করলেও পরবর্তী মেয়াদগুলোতে আর কোনো বৈঠক হয়নি।

Facebook Comments Box

No tags found for this post.

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নিত্যপণ্যের সঙ্গে লাগামহীনভাবে ব্যবহার্যপণ্যের দাম বাড়ানোর নেপথ্যে কারা?

বিভিন্ন দেশের কারাগারে ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রুমিন আপার মধ্যে শেখ হাসিনার ছায়া দেখা যায়: রাশেদ খাঁন

ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা বকেয়া কর পরিশোধ করতে হবে : হাইকোর্ট

ব্যালন ডি’অরে রোনালদোর গড়া ২টি রেকর্ড ভেঙে দিলেন মেসি

মাদক, হতাশা ও সুস্থ বিনোদনের অভাবে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, সহিংসতার মত বিভিন্ন অপরাধ

থার্ড টার্মিনাল চালু ১৬ ডিসেম্বর, পরিবর্তন হচ্ছে না বিমানবন্দরের নাম

আজ জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেবেন খলিলুর রহমান

সংসদে আইন পাস, সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগ করতে পারবেন দাতা

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনের বিধিমালায় পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ

১০

যানজট নিরসনে ঢাকার ৪ টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

১১

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুদিনের সফরে আজ ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন

১২

নো গ্যাস নো বিল, নো সার্ভিস নো ট্যাক্স: রুমিন ফারহানা

১৩

কারাবন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে পারবেন

১৪

সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে: জামায়াত আমির

১৫

বদলে গেছে জমির নামজারির নিয়ম, জেনে নিন নীতিমালা

১৬

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে বরণে ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবের আমেজ

১৭

জামালপুর-ঢাকা বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

১৮

বেনজীর আহমেদের অবস্থান জানতে ইন্টারপোলকে পুলিশের চিঠি

১৯

সাহায্য নয়, ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল

২০