দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরুর অ্যানথ্রাক্স রোগের প্রার্দূভাব ও মাংস খেয়ে মানুষজনেরও এ রোগে আক্রান্তের খবরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে মানুষজন গরুর মাংস ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যার ফলে মানুষজন গরুর মাংস কেনার চেয়ে মুরগি ও মাছ কিনছেন।
বাজার করতে আসা জিকরুল হক, মিঠু, লাল্টুসহ কয়েকজন জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরু ও মানুষের এ্যানথ্রাক্স রোগের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় তারা গরুর মাংস কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা জানান, আমরা এখন পাকিস্তানি, ফার্ম ও হাইব্রিড মুরগিসহ মাছ কিনছি।
আরো পড়ুন
এনিয়ে কথা হলে সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার রায় জানান, আমরা সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৪ জন করে, শহর এলাকা ও অফিসে আলাদা লোক দিয়ে এ বিষয়ে কাজ করছি এবং পৌর শহরের মাংসের বাজারসহ হাট-বাজারের মাংসের দোকানও তদারকি করছি। আমরা এ বিষয়ে সচেতন থাকলেও কোনো অসু¯’্য গরু জবাই হচ্ছে কি-না ? পৌর কর্তৃপক্ষের এ বিষয়টি দেখার তেমন কোনো কার্যকরীতা দেখতে পাইনি। এসময় তিনি জানান, মূলতঃ রংপুর ও গাইবান্ধা এলাকায় গরুর অ্যানথ্রাক্স রোগের প্রার্দূভাব বেশী রয়েছে।
এ রোগ প্রতিরোধে রংপুর ও গাইবান্ধা অঞ্চলে অনেক ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হলেও আমাদের এলাকায় মাত্র দেওয়া হয়েছে ১হাজার ভ্যাকসিন। এরমধ্যে আমরা ৩শ’ ভ্যাকসিন এলাকার খামারীদের গরুদের দিয়েছি। গরুর এ রোগের ব্যাপারে কারো কাছে তথ্য থাকলে তিনি পশু হাসপাতালে জানাবার আহবান জানিয়ে বলেন, সৈয়দপুরে এ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্তের খবর এখনো নেই।
সৈয়দপুর মাংস ব্যবসায়ী নেতা নাদিম আনসারি জানান, সৈয়দপুর শহরে প্রতিদিন ১৪ থেকে ২০টি করে গরু জবাই হয়। সৈয়দপুরের কসাইরা কোনো অসুস্থ্য গরু জবাই করেন না। এসময় তিনি বলেন, শহরের বাইরে যেমন ঢেলাপীর, চৌমহনি, ঘোড়াঘাটসহ অন্যান্য এলাকায় অসুস্থ্য পশু জবাই হতে পারে তবে আমরা যারা শহরে মাংসের ব্যবসা করি তারা নিয়ম মেনেই করি। তিনি আরো বলেন, আমাদের সৈয়দপুর শহরে গরুর মাংস ক্রেতা কমেনি। বর্তমানে বাজারে সাড়ে ৬শ’ থেকে ৬শ’ ৬০টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে।
মন্তব্য করুন