যশোরের শার্শার সবার প্রিয় উদ্ভাবক মিজানুর রহমান আর নেই । তিনি শুক্রুবার বিকালের কোন এক সময় জেলখানার পাহারায় থাকা কারারক্ষিদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
বিষয়টি পরিবারের কাছে রহশ্যজনক। স্বজনদের তদন্ত দাবি। উদ্ভাবক মিজানুর রহসান শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের মৃত আক্কাচ আলীর ছেলে।
শনিবার ময়না তদন্ত শেষে বেলা ৪টার সময় মিজানের মৃতদেহ শ্যামলাগাছি গ্রামের পৌছালে এক হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এক নজর দেখার জন্য শত শত মানুষ মিজানের বাড়িতে ভিড় করে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। শনিবার মাগরিব নামাজের পর এক বেদনা বিধুর পরিবেশে শ্যামলাগাছি গ্রামের কবর স্থানে মরহুম মিজানের দাফন সম্পন্ন হয়।
উদ্ভাবদ মিজানুর রহমানের ছোট ভাই আমিনুর রহমান জানান, গত ২১ জুলাই তার ভাই উদ্ভাবক মিজানুর রহমানকে একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা হয়। সেই দিন থেকে প্রায় ৪ মাস ধরে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।
মামলায় সাজা হলেও সু বিচার পাওয়ার জন্য উচ্চ আদালতে সাজার বিরুদ্ধে আফিল করা হয়েছে। আমিনুর জানান তার ভাই কারাগারে থেকে প্রতি ১ মাস অন্তর মোবাইলে পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। এ ছাড়া প্রতি সপ্তাহে মোবাইলে কথা বলতেন। তার সাথে কথা বলে আত্ম হত্যার মত কোন অবস্থা আমরা দেখিনি।
আরও পড়ুন
আমিনুর রহমান আরও বলেন শুক্রুবার সন্ধা ৬টা ২০ মিনিটের সময় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ হাসান তাকে ফোন দিয়ে বলে তার ভাই মিজানুর রহমান গলায় ফাঁস দিয়ে আত্ম হত্যা করেছে। খবর শুনে সে ও তার পরিবারের লোকজন যশোর সদর হাসপাতালের মর্গে যান। এবং তার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
আমিনুর রহমান আরও জানান , জেল খানায় লেখা আছে রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ। তা হলে কিভাবে কারাগারের নিরাপদ ছিন্ন করে তার ভাই গলাই দড়ি দিয়ে আত্ম হত্যা করল। কারাগারের মধ্যে দড়ি কোথায় পেল ? এমন প্রশ্ন তাদের। আমিনুর বলেন আসলে কি তার ভাই আত্ম হত্যা করেছে। বিষয়টি তদন্ত দাবি করেছেন তার পরিবার।
শ্যমলাগাছি গ্রামের মধু আহম্মেদ বলেন, মিজানুর রহমান একজন মোটর সাইকেল মেকানিক ছিল। সে বিজ্ঞান ভিত্তিক বিভিন্ন কৃষি যন্ত্র, অগ্নি নির্বাপক মেশিন, এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার প্রুভ জ্যাকেট সহ বিভিন্ন বিজ্ঞান ভিত্তিক বিষয়ে আবিষ্কার করে মানুষের নজরে আসেন। সেই সাথে বিভিন্ন বিজ্ঞান মেলায় তার আবিষ্কার প্রদর্শন করে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতয়ি পর্যায় পুরুষ্কার জিতেনেন। উদ্ভাবক মিজানুর রহমান নিজের উদ্যেগে একটি এতিম খানা, ১ টাকায় খাবার বাড়ি সহ অনেক জনহিতকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
এ ব্যাপারে শার্শার সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, উদ্ভাবক মিজানুর রহমান বলেছেন তার বিরুদ্ধে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে হ্যারেজ করার জন্য হত্যা মামলা দিয়েছে। মিজান জানান সে কোন হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন না।
মন্তব্য করুন