জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ১,৩০০-এর বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী প্রবেশ করেছেন বলে জানিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেট।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি পুলিশ প্রায় ১৫০ জনের পৃথক পৃথক দলে এসব বসতি স্থাপনকারীকে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দেয়। গভর্নরেটের দাবি, সেখানে তারা তালমুদ-সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় আচার পালন, গান গাওয়া, উচ্চস্বরে প্রার্থনা এবং প্রাঙ্গণের পূর্বাংশে সাষ্টাঙ্গে প্রণিপাত (Epic Prostration) করেন।
জেরুজালেম গভর্নরেট আরও জানায়, একই সময়ে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী আল-আকসা মসজিদের প্রবেশপথ ও জেরুজালেমের পুরোনো শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। এর ফলে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং ভোরের নামাজে অল্পসংখ্যক মুসল্লি অংশ নিতে সক্ষম হন। গভর্নরেটের অভিযোগ, পরে ইসরায়েলি পুলিশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি মুসল্লির ওপরও হামলা চালায়।
আল-আকসা প্রাঙ্গণের দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘স্ট্যাটাস কু’ ব্যবস্থার অধীনে সেখানে মুসলিমদের নামাজ আদায়ের অধিকার স্বীকৃত, আর অমুসলিমরা নির্ধারিত সময়ে পরিদর্শন করতে পারলেও ধর্মীয় উপাসনা করার অনুমতি পান না। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও জেরুজালেমভিত্তিক সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দাবি, এদিনের ঘটনায় সেই প্রচলিত ব্যবস্থার লঙ্ঘন হয়েছে।
উল্লেখ্য, আল-আকসা চত্বর মুসলমানদের কাছে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। একই সঙ্গে ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের কাছেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান, যেখানে প্রাচীন ইহুদি মন্দিরের অবস্থান ছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। ইহুদিদের শোকের দিন টিশা বি’আব উপলক্ষে প্রতিবছর এ স্থানকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য করুন