
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ। প্রতিবছর আরবি রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে দিবসটি পালিত হয়।
‘ফাতেহা’ শব্দ দ্বারা সুরা ফাতেহা পাঠ বোঝানো হয় এবং ‘ইয়াজদাহম’ অর্থ ১১ তারিখ। ফার্সি শব্দযুগল ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের অর্থ হলো ১১ তারিখের ফাতেহা পাঠ। ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম প্রধান সুফি সাধক ও উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব শাহ আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) আরবি রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে ইন্তেকাল করেন। তাঁর ওফাত দিবস উপলক্ষে মুসলিম সমাজে দিনটি বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।
আরও পড়ুন…
মূলত এই দিনে মুসলমানরা বড়পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর অসামান্য অবদান ও ইসলামের জন্য তার আত্মত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে এবং সুরা ফাতেহাসহ কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে তাঁর প্রতি ইসালে সওয়াব করা হয়।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, খানকা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ, দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর জীবন, আধ্যাত্মিক সাধনা, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা করা হয়। ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের প্রায় ৫০০ বছর পর, যখন মুসলিম সমাজ বিভ্রান্তি ও বিপথগামিতার মুখোমুখি, তখন ইসলামের নতুন আলো নিয়ে আবির্ভূত হন বড় পীর হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহঃ)। ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম সৈয়দ আবু সালেহ এবং মায়ের নাম বিবি ফাতেমা।
তিনি তৎকালীন সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র বাগদাদে পাড়ি জমান এবং মহান পীর হজরত আবু সাঈদ মাখরুমির (রহ.)-এর কাছে থেকে সুফিবাদ ও মারেফাতের পরম জ্ঞান লাভ করে খেলাফত প্রাপ্ত হন। তিনি পথহারা মানুষকে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর পথে ফিরিয়ে এনে পীরদের শিরোমণি হিসেবে সর্বজনবিদিত হন।
মন্তব্য করুন