আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:০৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৯৪ জন

পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ লালনের পরিণতি ভোগ করতে হবে

পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ লালনের পরিণতি ভোগ করতে হবে
ছবি : রয়টার্স।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশন যেন ভারত-পাকিস্তানের কথার লড়াইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। গত বুধবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ করে বলেছিলেন, অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করার চেষ্টা বা সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়ার চেয়ে পাকিস্তানকে উচিত তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর দিকে মনোনিবেশ করা।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং হাফিজ সাঈদের বিচার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

শুক্রবার এক পাকিস্তানি সাংবাদিক ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে জানতে চান, ‘ভারত সরকার কবে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করবে?’ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘একটি সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে?’

 

আরও পড়ুন…

তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যের অত্যন্ত কঠোর ও তীক্ষ্ণ জবাব দিয়েছে ভারত। শুক্রবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ২০২৫ সালে ভারতের সাথে পাকিস্তানের যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়োচিত হস্তক্ষেপের কারণে থেমেছিল উল্লেখ করে তাঁকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি তার ভাষণে আবারও কাশ্মীর ইস্যুটিকে বৈশ্বিক মঞ্চে উত্থাপন করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়া যাতে ২০২৫ সালের সেই ভয়াবহ সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে আর কখনো না পৌঁছায়, সে জন্য অবিলম্বে কাশ্মীর সমস্যার একটি ন্যায্য ও সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজন।

এ ছাড়া শেহবাজ শরিফ তার ভাষণে ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ পুনরায় কার্যকর করার দাবি জানান। শেহবাজ শরিফ তার ভাষণে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে বিশ্বকে নানা উপদেশ দেন।

শেহবাজ শরিফের বক্তব্যকে ‘অদ্ভুত, হাস্যকর ও ভণ্ডামিপূর্ণ’ অভিহিত করেন ভারতীয় কূটনীতিক পেটাল গেহলট। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ পরিষদকে মনে করিয়ে দেন যে ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের বুকেই আত্মগোপন করে ছিলেন।

শনিবার জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে পেটাল গেহলট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এই মাত্র ৯/১১ হামলার বার্ষিকী পালন করল। আর সেই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান একাডেমির একেবারে দোরগোড়ায় বসবাস করছিলেন।’

সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে কঠোরভাবে কটাক্ষ করে পেটাল বলেন, ‘দেশটি দিনের বেলায় নিরাপত্তা বজায় রাখার দাবি করে, আর রাতের আঁধারে সন্ত্রাসবাদ ছড়ায়।’

পাকিস্তানকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আমরা গত বছরই প্রমাণ করে দেখিয়েছি যে, সন্ত্রাসীদের পালানোর কোনো পথ নেই এবং লুকিয়ে থাকারও কোনো জায়গা নেই। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করার অধিকার আমরা নিশ্চিতভাবেই প্রয়োগ করব।

আর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এভাবে সন্ত্রাসবাদ চালানো অব্যাহত রাখলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

 

 

গত বছরের ২২ এপ্রিল পেহেলগাম হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ভারত গত বছরের ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই যুদ্ধ থামিয়েছেন। তবে নয়াদিল্লি বরাবরই যেকোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কথা অস্বীকার করে আসছে।

ভারত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরো বলেছে, যেন তারা পাকিস্তান এবং তার নীতিগুলোকে তাদের আসল রূপেই চিনে নেয়, তাদের প্রতিনিধিরা যেভাবে মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করে সেভাবে নয়। পেটাল বলেন, ‘বছরের পর বছর মিথ্যার পুনরাবৃত্তি করলেই তা সত্য হয়ে যাবে না। পাকিস্তানের এই দ্বিমুখী নীতি ও প্রতারণা তাদের নিজেদের কিংবা বিশ্বের—কারো কোনো উপকারে আসবে না।’

জম্মু ও কাশ্মীরকে ‘ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য এবং অপরিবর্তনীয় অংশ’ হিসেবে অভিহিত করে পেটাল গেহলট পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো তুলে ধরে বলেন, ‘চলুন, এবার পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরের দিকে নজর দেওয়া যাক। সেখানে পাকিস্তান সরকারের নির্বিচার হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে রাওলাকোটের জনগণকে জিজ্ঞাসা করুন।’

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানবাধিকার নিয়ে পাকিস্তানের ‘ভণ্ডামিপূর্ণ উপদেশ’-এর তীব্র সমালোচনা করে ভারতীয় প্রতিনিধি ইসলামাবাদের নিজস্ব ট্র্যাক রেকর্ড মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘পাকিস্তান হলো সেনাবাহিনীর শাসন—যা সেনাবাহিনীর জন্য এবং সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত। তাদের পুতুল শাসক পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু আসল নিয়ন্ত্রণ সব সময়ই সেনাবাহিনীর হাতেই থাকে।’

ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে শরিফের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ভারতের পক্ষ থেকে ইসলামাবাদের নিজস্ব রেকর্ডের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ‘পাকিস্তানি শাসনের মূল ভিত্তিই হলো ব্লাসফেমি আইন। পাকিস্তানকে তাদের সংখ্যালঘুদের সাথে কেমন আচরণ করে তা পুরো বিশ্ব জানে।’

শরিফ তার বক্তৃতায় সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়েও কথা বলেন। তবে এই চুক্তির বিষয়ে ভারত আগেই জানিয়ে দিয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদের বৈশ্বিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান যতক্ষণ না পর্যন্ত আন্ত সীমান্ত এবং অন্য সব ধরনের সন্ত্রাসবাদে তাদের সমর্থন বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে বন্ধ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিত রাখা হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করছে সরকার, যে সুবিধা পাবেন চাকরি প্রত্যাশীরা

১

মেসির পর আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি যার গায়ে উঠবে

২

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত, লাভবান হবেন বাংলাদেশিরাও

৩

দেশের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ

৪

পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ লালনের পরিণতি ভোগ করতে হবে

৫

পুলিশে যুক্ত হচ্ছে নতুন ইউনিট, শাখা থাকবে মেট্রো, ডিভিশন ও জেলায়

৬

থানার দরজা ভেঙে বেরিয়ে গেল ২২ কিশোর

৭

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

৮

সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বেসরকারি ক্লিনিক নয়

৯

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

১০

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

১১

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

১২

মামার প্ররোচনায় বিয়ে, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মরিয়মের আত্মহত্যা

১৩

জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

১৪

২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনে প্যাকেজ মূল্য কত টাকা, আর বাকি ৪ দিন

১৫

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

১৬

দাবি যে কোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে: জামায়াত আমির

১৭

সার্ককে সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

১৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনিয়র মাদ্রাসায় পরিণত হয়েছে: ফজলুর রহমান

১৯

সাংবাদিকরা আছেন বলেই দেশে গণতন্ত্র টিকে আছে : তথ্যমন্ত্রী

২০