
দিল্লিতে সিজেপি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের আনুষ্ঠানিক বৈঠক।ভারতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের অচলাবস্থা নিরসনে তরুণদের নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)–এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে নিরপেক্ষ পরিবেশে বৈঠকটি শুরু হয়। তবে আলোচনা শুরু হলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ ও আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করা হবে না বলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নফাঁস রোধে দেশের পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে, টানা ২৬ দিন অনশন করার পর অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অনশন ভঙ্গ করেছেন। এর ফলে চলমান সংকটের সমাধানে আলোচনার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে বিদ্যমান আইন সংশোধনের একটি খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের কথা জানিয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীরা সরকারের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, শুধু কঠোর শাস্তির বিধান যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হলে পরীক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।
এদিকে, সোনম ওয়াংচুক সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনার বিস্তারিত শিগগিরই একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থানের সংকট এবং বারবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ভারতীয় তরুণদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভই এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয় এবং কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়, যার ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
দিল্লি মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকে আরও ১৭টি মেট্রো স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এটি তৃতীয়বারের মতো বড় পরিসরে মেট্রো স্টেশন বন্ধের ঘটনা।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন