
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুক্ত হওয়ার ঘোষণার পর দলটির অভ্যন্তরে ভিন্নমত ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জোট ঘোষণার অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিকে জোটভুক্ত করার ঘোষণা দেন। ঘোষণার প্রায় ৪৩ মিনিট পর, বিকেল ৫টা ৪৩ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানান সামান্তা শারমিন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামীর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমেই তিনি প্রথম জানতে পারেন যে এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হচ্ছে। তবে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের আত্মপ্রকাশের দিন জোটের মুখপাত্র ও এনসিপির আহ্বায়কের বক্তব্য অনুযায়ী এমন সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ইতোমধ্যে এই বিষয়ে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে । পাশাপাশি, এনসিপি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই আসন সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
সামান্তা শারমিনের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত ও অবস্থান তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগকে দুর্বল করছে। এতে জাতীয় নাগরিক পার্টির ঘোষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য ও মূল আদর্শিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি জানান, এনসিপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত যেসব আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে, তিনি সেগুলোর সঙ্গে একমত এবং সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তবে দলের ভেতরের কিছু ব্যক্তি নির্দিষ্ট কয়েকটি আসনের বিনিময়ে ২৮ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এনসিপির মূল রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে নিজের ভবিষ্যৎ অবস্থান প্রসঙ্গে সামান্তা শারমিন স্পষ্ট করে বলেন, পদত্যাগ করার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ তিনি দেখছেন না। তার ভাষায়, এনসিপির আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক বয়ান ও আদর্শের সঙ্গেই তিনি সম্পূর্ণ একমত। কেউ কেউ বিচ্যুত হলেও দল হিসেবে এনসিপি এখনো সঠিক রাজনৈতিক অবস্থানেই রয়েছে।
মন্তব্য করুন