
প্রায় দুই দশক পর দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রত্যাবর্তনের পথে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। জোটসঙ্গীদের আসন যোগ করলে মোট সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২১২-এ। আদালতের স্থগিতাদেশাধীন আরও দুটি আসনেও জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। সংরক্ষিত নারী আসন যুক্ত হলে জোটের আসনসংখ্যা আরও বাড়বে।
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন—এ বিষয়ে আগেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকার গঠনে অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস। নজরুল ইসলাম খান দীর্ঘদিন দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও এবারের নির্বাচনে অংশ নেননি। অতীতে তিনি কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনার আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে আনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী-এর নামও আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলীয় নেতারা জানান, রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। এরপর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ১৯৩টি আসন পেয়েছিল এবং জোটসহ মোট আসন ছিল ২১৬। সে সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন দলের তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ সময় পর আবারও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে দলটি—এটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন