টরন্টোতে দুই কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদরিচের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে বিষাদের ছায়া নামাটা অবশ্যম্ভাবী ছিল। তবে ১০৯ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে সেই বিষাদের রেখা স্থায়ী হলো মদরিচের মুখে, আর নাটকীয় জয় নিয়ে বিশ্বকাপে টিকে রইলেন রোনালদো। মূলত পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের পুরো চিত্রটাই ফুটে উঠেছে রোনালদোর একের পর এক বদলে যাওয়া অভিব্যক্তিতে।
শেষ ষোলোর এই ম্যাচে প্রথমার্ধে দুই দলই গোলশূন্য থাকার পর আসল নাটক শুরু হয় দ্বিতীয়ার্ধে। ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে গেলে রোনালদোর মুখে স্পষ্ট হয়ে ওঠে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের চরম আতঙ্ক ও হতাশা।
এরপরই শুরু হয় ভাগ্যের নির্মম খেলা:
৬০ মিনিট (বাতিল গোল): চমৎকার এক ফ্লিকে রোনালদো বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। মাঝপথে থমকে যায় তাঁর চেনা ‘সিউ’ উদ্যাপন।
৬৮ মিনিট (পেনাল্টি গোল): পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান রোনালদো। এবার আর ভুল হয়নি, মেতে ওঠেন সিউ উল্লাসে।
৮১ মিনিট (কোচের সিদ্ধান্ত): কোচ রবার্তো মার্তিনেজ রোনালদোকে মাঠ থেকে তুলে নিলে তাঁর মুখে স্পষ্ট বিরক্তি ও অসন্তোষ ফুটে ওঠে।
সবচেয়ে বড় নাটকটি মঞ্চস্থ হয় যোগ করা সময়ের ১৩তম মিনিটে। ক্রোয়েশিয়া আবার বল জালে পাঠালে ডাগআউটে বসা রোনালদোর চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে, স্তব্ধ হয়ে যান তিনি। তবে দীর্ঘ ভিএআর (VAR) পরীক্ষা শেষে রেফারি গোলটি বাতিল করলে এক লহমায় কেটে যায় সব মেঘ।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই স্বস্তির হাসি ফোটে পর্তুগাল অধিনায়কের মুখে। পুরো ম্যাচে চরম আবেগের রোলারকোস্টারের মধ্য দিয়ে যাওয়া রোনালদো শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়েন জয়ের আনন্দ নিয়েই।
মন্তব্য করুন