ইংল্যান্ডদের হারিয়ে ফাইনালের মঞ্চে গর্জন মেসির আরও একবার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মেসির ইংল্যান্ডেদের গল্প লিখল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন চূর্ণ করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল লিওনেল মেসির দল। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংলিশদের ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের পর সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন,
একটি বিশ্বকাপ জয়ের পর আবারও ফাইনালে পৌঁছানো মুখের কথা নয়। মানুষ যা-ই বলুক না কেন, তারা পছন্দ করুক বা না করুক—গত চার বছর ধরে আমরাই সেরা ছিলাম। আজও আমরা বিশ্বের সেরা দুই দলের একটি।
মেসি আরও যোগ করেন, এই সাফল্য প্রমাণ করে যে আর্জেন্টিনার অর্জন কোনো কাকতালীয় বিষয় নয় এবং কেউ তাদের এটি উপহার দেয়নি। টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা যেকোনো দলের জন্যই এক বিরল কীর্তি, যা করে দেখিয়েছে এই আলবিসেলেস্তে স্কোয়াড
রোমাঞ্চকর ম্যাচে আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানো:
ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়ে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল ইংল্যান্ড। দীর্ঘ ৩০ মিনিট সেই লিড ধরেও রেখেছিল তারা। তবে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে দৃশ্যপট বদলে দেয় আর্জেন্টিনা।
৮৫ মিনিট:লিওনেল মেসির চমৎকার অ্যাসিস্ট থেকে দূরপাল্লার জোরালো শটে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ।
৯২ মিনিট (ইনজুরি টাইম):এবারও ত্রাতা মেসি। তাঁর মাপা ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়ান লাউতারো মার্তিনেজ।
এই গোলের ওপর ভর করেই চলতি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের টানা চতুর্থ ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্য জয়ের রেকর্ড গড়ল আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে সতীর্থদের মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করে মেসি বলেন, “এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য। এই দলটি অসাধারণ। আজ পিছিয়ে পড়ার পরও আমরা হাল ছাড়িনি, নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে গেছি। প্রতিপক্ষকে তাদের অর্ধে চেপে ধরেছিলাম। এই জয়ের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি আওড়ে সমর্থকদের উদ্দেশে এক আবেগঘন বার্তায় মেসি বলেন,আমাদের মতো আপনারাও এই মুহূর্তটি উপভোগ করুন। আমরা আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে। চার বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কাটানোর পর আবারও শিরোপার লড়াইয়ে নামছি। আমরা শেষ ধাপে পৌঁছাতে চেয়েছিলাম, তা পেরেছি। এখন বাকিটা ঈশ্বরের ইচ্ছা।”
মন্তব্য করুন