শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ইউএন’র নির্দেশ অমান্য করে গৃহহীন বিধবা নারি মমেনা বেগম (৬৫)কে গুচ্ছ গ্রামের সরকারি ঘর থেকে বের করে দিয়েছে ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়া। গোলাম কিবরিয়া উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ৫ নং সন্ধ্যাকুড়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। ভাগ্যে জুটেনি মাথা গুজার ঠাই। মমেনা বেগম উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামের মরহুম ফজল মিয়ার স্ত্রী। ফজল মিয়া ছিলেন একজন দিনমজুর ও গৃহহীন। পুরো জীবন কাটিয়েছেন অন্যের বাড়িতে। ২ছেলেসহ ৪ সদস্যের পরিবার ছিলো তার। দিনমজুরি করে চলতো তার সংসার। গত ৭ বছর পুর্বে ফজল মিয়ার মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, ফজল মিয়ার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী মমেনা বেগম দিনমজুরি কাজ করে। এতে যা পায় তাই দিয়েই চলে তার সংসার। একদিন কাজে না গেলে সেদিন মমেনার ঘরে চুলা জ্বলে না। ছেলেরা বিয়ে সাদী করে আলাদা সংসার করে আসছে। কিন্তু শেষ হয়নি মমেনা বেগমের জীবন যুদ্ধ। অন্যের বাড়িতে থেকে দিনমজুরি করে চলে তার সংসার। শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রতিদিন কাজেও যেতে পারেন না তিনি। এর পরেও জীবিকা নির্বাহের তাগিদে থেমে নেই মমেনার বেগমের জীবন যুদ্ধ। স্থানীয়রা জানান, মমেনা বেগম নদী থেকে প্রায় প্রতিদিন মাছ ধরে প্রতিবেশিদের কাছে ৫০/ ৬০ টাকায় বিক্রি করে। আর এই দিয়ে খেয়ে না খেয়ে চলে তার সংসার।
মমেনা বেগম জানান অন্যের বাড়িতে থাকতে গেলে তাদের অনুগত হয়েই থাকতে হয়। আর তাল থেকে তিল খসলেই বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। এভাবে গত ৪০ বছরে কত জনের বাড়িতে থেকেছেন তা মমেনা বেগম হিসাব করে সারতে পারবেন না বলে জানান। সর্বশেষ গত ৪ বছর ধরে গোমড়া গ্রামের একজনের বাড়িতে আছেন মমেনা বেগম।
আরো পড়ুন :
কিন্তু গত কয়েক মাস পুর্বে বাড়ির মালিক তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে মমেনা বেগমের স্থান হয়েছে গোমড়া গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা বিধবা নারী আঙ্গুরি বেগম (৭৫ ) এর ঘরে। ঠাই হলেও পরে ওই ঘরে তাকে আর থাকতে দেয়া হয়নি । মমেনা বেগমকে নিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিবেন প্রকশ করেন।
বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় উপজেলা প্রশাসনের। পরে উপজেলা প্রশাসন ওই ইউনিয়নের ২০১২ সালে সরকারি নির্মানাধীন গোমড়া গুচ্ছগ্রামে কোন পরিত্যক্ত ঘর আছে কি না ভুমি প্রশাসন দিয়ে প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত করে ৩০ ঘরের মধ্যে ৫টি ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পান।
গত ১যুগ ধরেই ঘরগুলো পরিত্যক্ত। যাদের দেয়া হয়েছিলো তারা বসবাস করেন না। পরে গত ১ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো,আশরাফুল আলম রাসেল আনুষ্ঠানিকভাবে ২ টি পরিত্যক্ত ঘরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া করে দেন সেফালি বেগম ও মমেনা বেগমকে। কিন্তু ঘটনার ২ দিন পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেলের নির্দেশ অমান্য করে ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়াসহ কয়েকজনকে ওই ঘর থেকে মমেনা বেগম জোরপূর্বক বের করে দিয়ে উক্ত ঘরে অন্য একজনকে উঠিয়ে দেয়া হয়।
এছাড়া শেফালী বেগমকেও অপর ঘর থেকে বের করে দেয়ার পরিকল্পনা করে এবং হমকি প্রদর্শন করে আসছিলো । পরিস্থিতি সামলাতে শেফালী বেগমের পিতা সোনা মিয়া নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। জানা গেছে কেউ কেউ ঘর বরাদ্ধ নিয়ে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। থাকতে দিয়েছেন অন্য কোন লোককে। অথচ ৪০ বছরেও গৃহহীন বিধবা মমেনা বেগমের ভাগ্যে জুটেনি মাথা গুজার ঠাই। ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়া বলেন ভুমি প্রশাসনের নির্দেশেই মমেনা বেগমকে বের করে দেয়া হয়েছে।
নলকুড়া ইউনিয়ন ভুমি সহকারি কর্মকর্তা মো, রুকুনুজ্জামান বলেন আমরা তাদের পুনর্বাসন করেছি কাউকে বের করে দেয়ার জন্য বলিনি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেলের সাথে কথা হলে তিনি মমেনা বেগমের বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
মন্তব্য করুন