
বাগেরহাটে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগী দেখেন সিভিল সার্জন মাহবুবুল আলম। সচিবালয়সহ সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে নিকটাত্মীয়স্বজন থাকায় অনিয়মটাই তার কাছে নিয়ম হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন সচেতন মহল। চলতি বছরের ৪ মার্চ ডা. মাহবুবুল আলম বাগেরহাট জেলা সিভিল সার্জন হিসেবে যোগ দেন। এর আগে জেলার কচুয়া উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী শুধু অফিসিয়াল এবং রাষ্ট্রের কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও ডা. মাহবুবুল আলম নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যক্তিগত কারণে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে আসছেন।
আরও পড়ুন:
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লা বাজারে ল্যাব ওয়ান প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল সিভিল সার্জনের সাদা রঙের সরকারি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৫-১৪১১)। কাছে গিয়ে দেখা যায়, গাড়ির ভেতরে ড্রাইভার বসা। গাড়িটির বিষয়ে জানতে চাইলে চালক শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এটা জেলা সিভিল সার্জন স্যারের গাড়ি। সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুল আলম স্যার ল্যাব ওয়ান হাসপাতালে রোগী দেখতে গেছেন।’ সেই কথার সূত্রে হাসপাতালটির ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুল আলম গ্লাস ঘেরা একটি রুমে বসে রোগী দেখছেন।
ল্যাব ওয়ান প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার কৌশিক মহল বলেন, ‘বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুল আলম স্যার নিয়মিতভাবে আমাদের এখানে রোগী দেখেন। তিনি সপ্তাহের প্রতি বুধবার বিকেল ৪টার দিকে আসেন এবং চেম্বার করেন।’
এ বিষয়ে ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আমি তিন মাস আগে বাগেরহাটে যোগ দিয়েছি। আমার ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। সেই কারণে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছি।’ ব্যক্তিগত কারণে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করা যায় কি না, এমন প্রশ্নে তিনি উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকেন।
জেলা সুজন-এর সাধারণ সম্পাদক এস কে এ হাছিব বলেন, জেলা পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা (সিভিল সার্জন) হিসেবে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করা নীতি বহির্ভূত কাজ। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য দপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সরকারি গাড়ি তো শুধু সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য। কেউ যদি প্রাইভেট প্র্যাকট্রিস করতে যান, তিনি তার ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার করতে হবে, এটাই নিয়ম। যদি বিষয়টি প্রমাণ পাওয়া যায়, সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মন্তব্য করুন