
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনা নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধ জাল ও বিদ্যুতায়িত পদ্ধতিতে মাছ শিকারের কারণে মৎস্য সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এতে একদিকে নদীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পথে, অন্যদিকে বিপাকে পড়েছেন প্রকৃত মৎস্যজীবীরা। বেপরোয়া মাছ নিধন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীতে বর্তমানে সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ গুলিজাল, কোনাজাল, চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাটারির সাহায্যে বিদ্যুতায়িত করে মাছ শিকারও অব্যাহত রয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও পরিবেশবিধ্বংসী।
বিশেষ করে গুলিজাল ও ব্যাটারি চালিত বিদ্যুতায়িত পদ্ধতিতে মাছ ধরার ফলে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা ও ছোট মাছ ধরা না পড়েই মারা যাচ্ছে। এসব মৃত মাছ নদীর পানিতে পচে গিয়ে পানির গুণগত মান নষ্ট করছে এবং জলজ পরিবেশে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া নদীর বিভিন্ন স্থানে সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও কোনাজাল ব্যবহার করে জাটকা নিধন অব্যাহত রয়েছে। মৎস্যজীবীদের একটি সূত্র আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, এভাবে লাগামহীন মাছ নিধন চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে যমুনা নদীতে মৎস্য সম্পদ টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
গত ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়নের সীমানা সংলগ্ন ভাটিতে পার্শ্ববর্তী রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা এলাকায় যমুনা নদীতে সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত গুলিজাল দিয়ে মাছ ধরার ঘটনা প্রত্যক্ষ করা যায়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর মৎস্য কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছি। ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অপরদিকে কাজিপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ জানান, যমুনা নদীতে ব্যাটারি চালিত বিদ্যুতায়িত পদ্ধতিতে মাছ শিকারের বিষয়ে তারা অবহিত। তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, অবৈধ জাল ও ধ্বংসাত্মক পদ্ধতিতে মাছ শিকার বন্ধ না হলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন। নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির দাবি জানান তিনি।
মন্তব্য করুন