
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথাকথিত অনলাইন গেম ও চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে ‘ক্রোমিং চ্যালেঞ্জ’ এখন নতুন করে আতঙ্কের নাম। ডিওডোরেন্ট, পেইন্ট থিনার কিংবা নেইলপলিশ রিমুভারের মতো রাসায়নিক দ্রব্য শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করে ভিডিও বানানো—এই ভয়ংকর প্রবণতা ইতোমধ্যে কিশোর ও তরুণ সমাজকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
‘ক্রোমিং’ এমন একটি বিপজ্জনক অভ্যাস, যেখানে ঘরোয়া ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ইচ্ছাকৃতভাবে শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এটিকে একটি “চ্যালেঞ্জ” বা “অনলাইন গেম” হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা লাইক ও ভিউয়ের আশায় নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এসব রাসায়নিকের বিষাক্ত উপাদান খুব দ্রুত ফুসফুস হয়ে রক্তে মিশে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। এর ফলে অল্প সময়েই দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, খিঁচুনি ও অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ। দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হওয়া, লিভার ও কিডনি বিকল হওয়া ছাড়াও হঠাৎ হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এই চ্যালেঞ্জের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ‘সাডেন স্নিফিং ডেথ সিনড্রোম’। এতে কোনো পূর্ব লক্ষণ ছাড়াই হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম থেমে যেতে পারে। অর্থাৎ, একটি ভিডিও তৈরির সময়ই ঘটতে পারে চূড়ান্ত বিপর্যয়।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, কিশোর বয়সের কৌতূহল, ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা এবং অনলাইনে জনপ্রিয় হওয়ার আকাঙ্ক্ষাই এই চ্যালেঞ্জকে ভয়ংকরভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই অংশগ্রহণকারীরা জানেই না—এটি মাদকাসক্তির একটি রূপ এবং সম্পূর্ণ প্রাণঘাতী।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় এ ধরনের বিপজ্জনক কনটেন্ট সহজেই ভাইরাল হচ্ছে। সময়মতো কনটেন্ট অপসারণ না হওয়ায় তরুণরা বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং এটিকে নিছক বিনোদন হিসেবে দেখছে।
শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, এই ভয়ংকর প্রবণতা রোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের অনলাইন কর্মকাণ্ডে নজর রাখা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা জোরদার করা।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা—একটি ভিডিও বা কয়েকটি লাইক কখনোই মানুষের জীবনের চেয়ে বড় হতে পারে না। ‘ক্রোমিং চ্যালেঞ্জ’ কোনো সাহসিকতার পরীক্ষা নয়; এটি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক ভয়ংকর পথ।
মন্তব্য করুন