
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এখনো দেশের সাধারণ মানুষ চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। দুর্নীতি সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন—মানুষ কি এমন বাংলাদেশই চেয়েছিল?
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জের নিউ ফিল্ড মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই আজও আমাদের মাঝে আছেন, কিংবা তাঁদের সন্তানরা আছেন। তিনি জানান, নিজেও একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্য হিসেবে কথা বলছেন। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যদি শহীদরা দেখতেন, তাহলে হয়তো অনেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তই নিতেন না।
তিনি আরও বলেন, জীবন দিয়ে যারা দেশকে স্বাধীন করেছেন, তাঁদের প্রতি রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব যথাযথ সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। শহীদদের স্বপ্ন ছিল ন্যায় ও সাম্যের বাংলাদেশ—যেখানে থাকবে অর্থনৈতিক মুক্তি, সুশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়নি।
এই ব্যর্থতার দায় কার—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যারা বারবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, ভালো কাজের কৃতিত্ব যেমন তাদের নিতে হবে, তেমনি ব্যর্থতা ও অপকর্মের দায়ও তাদেরই বহন করতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক মহল রয়েছে যারা মা-বোনদের অসম্মান করতে চায়। তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের পরিবারের নারী সদস্যদের সম্মান করতে শিখলে দেশের কোটি কোটি নারীকেও সম্মান করা সম্ভব। এ ধরনের অপকর্ম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক নির্যাতন কিংবা নারীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা চলতে থাকে, তাহলে আর সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে জীবন দেওয়া হবে, কিন্তু কোনোভাবেই মায়েদের সম্মানহানি হতে দেওয়া হবে না—এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মুখলিছুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী ও জেলা সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান সিলেট জেলার চারটি আসনে জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
মন্তব্য করুন