
ইরানের একটি আদালত নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদীকে আরও সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। তার আইনজীবী মোস্তফা নীলি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নীলি জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের একটি আদালত নার্গিস মোহাম্মদীকে ‘জমায়েত ও যোগসাজশের’ অভিযোগে ছয় বছর এবং ‘প্রচারমূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকার’ অভিযোগে দেড় বছরের কারাদণ্ড দেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, একটি স্মরণসভায় ‘উস্কানিমূলক মন্তব্য’ করার অভিযোগে গত ডিসেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তার পরিবার জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় তাকে মারধর করা হয় এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
নারী অধিকার ও মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থানের কারণে গত এক দশকের বেশির ভাগ সময় কারাগারেই কাটাতে হয়েছে ৫৩ বছর বয়সী এই মানবাধিকারকর্মীকে। ইরানে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ২০২৩ সালে তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
আইনজীবী মোস্তফা নীলি জানান, গত ১৪ ডিসেম্বরের পর এই প্রথম তিনি নার্গিস মোহাম্মদীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। তিনি আরও বলেন, আদালত তাকে দেশত্যাগে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা এবং পূর্ব খুসফ প্রদেশে দুই বছরের নির্বাসনের আদেশ দিয়েছে।
নীলির ভাষ্য অনুযায়ী, তিন দিন আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে আবার তাকে আটক কেন্দ্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
নার্গিস মোহাম্মদীর স্বামী তাগি রহমানি জানান, তিনি আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করেননি। কারণ তার বিশ্বাস, ইরানের বিচার বিভাগের কোনও বৈধতা নেই এবং পুরো বিচার প্রক্রিয়াই ছিল পূর্বনির্ধারিত ও প্রহসনমূলক। তিনি বলেন, আদালতে উপস্থিত থাকলেও নার্গিস পুরো সময় নীরব ছিলেন এবং কোনও নথিতে স্বাক্ষরও করেননি।
বিবিসিকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় রহমানি এই রায়কে ‘নিষ্ঠুর ও চরম অন্যায্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, নার্গিস মোহাম্মদীর মেয়ে কিয়ানা রহমানি মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, তার মা ইতোমধ্যেই জীবনের ১০ বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সাল থেকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা’ ও ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যোগসাজশের’ অভিযোগে ১৩ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন নার্গিস মোহাম্মদী। যদিও তিনি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।
চিকিৎসার প্রয়োজনে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাকে তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগার থেকে তিন সপ্তাহের জন্য অস্থায়ী মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে দেশজুড়ে অস্থিরতার সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনায় ইরানি কর্তৃপক্ষের ভূমিকার সমালোচনা করে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ সঙ্গে যুক্ত করে একটি আবেদনে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যেও ছিলেন নার্গিস মোহাম্মদী।
মন্তব্য করুন