
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্ট শুক্রবার এক ঐতিহাসিক রায়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক একতরফাভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত বৈশ্বিক শুল্কগুলো আইনি অনুমোদনহীন হিসেবে ঘোষণা করেছে। আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করতে হলে কংগ্রেসের পরিস্কার অনুমোদন থাকা প্রয়োজন, যা ট্রাম্প দেখাতে পারেননি।
আদালত বিশেষত ট্রাম্পের সতর্কতা ছাড়াই ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (IEEPA) ব্যবহারের মাধ্যমে জারি করা শুল্কগুলিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং মনে করেছে, শুল্ক নির্ধারণ ও কর বসানোর ক্ষমতা সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসের দায়িত্ব, প্রেসিডেন্টের নয়।
সুপ্রীম কোর্টের রায়ে বলা হয়, দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলা এমন গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালায় প্রেসিডেন্টের একচেটিয়া সিদ্ধান্ত যথেষ্ট আইনগত ভিত্তি বহন করেনা। যদিও রায়ে তিনজন বিচারক বিরোধী মত দেন, প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসসহ ছয়জন বিচারক এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দেন।
রায়ের কিছু সময়ের মধ্যেই ট্রাম্প পাল্টা ঘোষণা দিয়ে জানান যে তিনি ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ অনুযায়ী প্রায় ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যা প্রায় ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর হবে। এই শুল্ক কার্যকর হবে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে। নতুন শুল্কে কিছু নির্দিষ্ট পণ্য যেমন খনিজ, ওষুধ ও ইলেকট্রনিক্সের মতো আইটেমগুলোতে কিছু ছাড় রয়েছে, তবে ওই ছাড়ের তালিকা অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট রয়ে গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করছেন।
হোয়াইট হাউস জানায়, নতুন শুল্কের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যচুক্তিতে থাকা দেশগুলোও পড়বে, যদিও শুল্কের হার চুক্তিতে নির্ধারিত হারের বদলে হবে সেকশন ১২২-এর আওতায়।
বিচারপতির রায়ের পর ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করে মন্তব্য করেন যে কিছু বিচারক “দেশপ্রেমের অভাব” দেখিয়েছেন এবং তাদেরকে কঠোর ভাষায় উদ্দেশ্য করেন। তবে প্রশাসন বলছে, এই নতুন সেকশন ১২২ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ এবং উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই রায়ের ফলে শুধুমাত্র ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতিই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং শুল্ক আদায় অর্থ ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সমাধান পেতে পারে।
মন্তব্য করুন