ডেস্ক রিপোর্ট:
২৫ মার্চ ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ২০৮ জন

ইরানকে দেয়া ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবে ইসরায়েলের কপালে ভাঁজ

ইরানকে দেয়া ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবে ইসরায়েলের কপালে ভাঁজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানে যে শান্তি প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নিয়ে তেল আবিবের নীতিনির্ধারকদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও সংশয় তৈরি হয়েছে।

যদিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দাবি, ট্রাম্প যেকোনো চুক্তিতে ইসরায়েলের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবেন। তবুও পর্দার আড়ালে চুক্তির কঠোরতা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

রামাল্লাহ থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি নিদা ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে ট্রাম্প একটি দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে অতিমাত্রায় আগ্রহী। এই লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঠিক কতটা এবং কী ধরনের আপস করবেন, তা নিয়েই এখন প্রধানত চিন্তিত ইসরায়েল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফার পরিকল্পনাটি যদি সমঝোতার রূপরেখা হিসেবে গৃহীত হয়, তবে তার আগে এক মাসব্যাপী সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলের সামরিক কৌশলকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে তারা মনে করছে।

ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ। এই বিশাল পরিমাণ উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কি কোনো তৃতীয় দেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে, নাকি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাছে হস্তান্তর করা হবে—তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ইউরেনিয়াম ইরানের ভূখণ্ডে বা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মানেই হলো যেকোনো সময় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বজায় রাখা।

দ্বিতীয় বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি। তেহরান আর কখনোই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে ইসরায়েলকে হুমকি দেবে না—এমন নিশ্চয়তা কে দেবে? চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে ইরান কি আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে না? এই প্রশ্নগুলোই এখন তেল আবিবকে ভাবিয়ে তুলছে। তারা মনে করছে, ইরান এই চুক্তির সুযোগ নিয়ে নিজেদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের সময় পেয়ে যেতে পারে।

নিদা ইব্রাহিম আরও জানিয়েছেন, ইসরায়েল বর্তমানে এই ১৫ দফার প্রতিটি পয়েন্ট গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। তবে কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে তাদের একটি ভিন্ন সামরিক পরিকল্পনাও রয়েছে। তেল আবিব আশা করছে, কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে পৌঁছানোর আগেই তারা ইরানে আরও কিছু কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ পাবে।

মূলত ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো যতটা সম্ভব ধ্বংস করে দিয়ে তবেই তারা আলোচনার টেবিলে বসতে চায়, যাতে চুক্তি পরবর্তী সময়ে ইরান আর মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আজ থেকে বঙ্গভবনে অফিস করবেন

কাউন্সিলর একরামুল হত্যাঃ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ সেনা হেফাজতে

হজের নিবন্ধন শুরু, আবেদন করতে পারবেন না যারা

শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের দুই মামলার বিচার শুরু আজ

সংবিধান সংস্কারে অগ্রগতি না হলে রাজপথে নামবে এনসিপি

তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

মহেশপুর সীমান্তে ৬ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা

শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকার দোকান ও মার্কেট বন্ধ

ভারতীয়দের ভিসা-সুবিধা প্রত্যাহার করল চার দেশ

১০

দিল্লিতে সিজেপি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের আনুষ্ঠানিক বৈঠক

১১

নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই দেশে ফিরলেন স্পিকার

১২

মোদি সরকারের আশ্বাসে ২৬ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনাম ওয়াংচুক

১৩

স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি,

১৪

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নির্বাচিত

১৫

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মোদির আমন্ত্রণ

১৬

আল-আকসা প্রাঙ্গণে ১,৩০০-এর বেশি ইসরায়েলি প্রবেশ

১৭

ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানালেন সালমান খান

১৮

যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর

১৯

পোশাক শিল্পের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

২০