
পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীর সমর্থকদের দফায় দফায় ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। চলতি মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য আঞ্চলিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত নির্বাচনী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ওই গোষ্ঠীর একটি পরিকল্পিত বিক্ষোভ মিছিলের ঠিক আগের দিন এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই সহিংসতার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কাশ্মীরের এই সাম্প্রতিক উত্তেজনার মূল সূত্রপাত আঞ্চলিক বিধানসভার আসন বণ্টন নিয়ে। সেখানকার স্থানীয় বিধানসভায় পাকিস্তানের অন্যান্য এলাকায় বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। আন্দোলনকারী সাধারণ মানুষের দাবি, এই বিশেষ সংরক্ষিত ব্যবস্থার কারণে তাদের নিজস্ব স্থানীয় প্রতিনিধিত্বের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ ও সংকুচিত হচ্ছে। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার প্রতিবাদেই স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও সাধারণ জনগণ তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।
পুঞ্চের বিভাগীয় কমিশনার ওয়াহিদ খান জানান, বিক্ষোভকারীরা ওই সেক্টরে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বিশেষ কনভয় অবরুদ্ধ করে কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ও দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীরা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। এই সংঘর্ষের ফলে সমগ্র অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।
উভয় পক্ষের মধ্যকার এই সহিংসতার বিবরণ দিয়ে বিভাগীয় কমিশনার আরও জানান, তারারখাল এলাকায় ছয়জন বিক্ষোভকারী এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাওলাকোট এলাকায় সংঘটিত পৃথক আরেকটি সহিংস ঘটনায় একজন আন্দোলনকারী এবং একজন নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া এই চলমান অসন্তোষ ও সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিতর্কিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে গত জুন মাসে নিষিদ্ধ হওয়া নাগরিক সমাজের জোট ‘যৌথ অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি) আজ বুধবার রাওলাকোটে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে। পুঞ্চের বিভাগীয় কমিশনার ওয়াহিদ খান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আন্দোলনকারীদের কোনোভাবেই শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো মূল্যে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
মন্তব্য করুন