
বোমা হামলার ঝুঁকি নিয়েই ট্রাম্পের দূতের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন আরাগচি। বোমা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে চলা সংবেদনশীল কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমস। রোববার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের সময় বোমা হামলার ঝুঁকির মধ্যেও আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকের একপর্যায়ে আরাগচি উইটকফকে প্রশ্ন করেন, “যেকোনো মুহূর্তে বোমা হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে কখনো কি আলোচনায় বসেছেন?” তাঁর এই মন্তব্য আলোচনার সময়কার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিরই প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা যায়, গত বছরের পরমাণু চুক্তিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দুই দেশের এই গোপন যোগাযোগ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তবে তেহরানের দাবি, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ছিল না।
ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ইরান এমন কোনো রাষ্ট্র নয়, যার ওপর চাপ সৃষ্টি করে সহজে নতি স্বীকার করানো সম্ভব। তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের কৌশল প্রয়োগ করেছে, ইরানের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হবে না।
এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে জুন মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সামরিক হামলা এবং জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় দুই দেশের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে হামলা জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, তেহরানও সতর্ক করেছে, যেকোনো নতুন সামরিক পদক্ষেপের জবাবে পুরো অঞ্চলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
মন্তব্য করুন