আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ মার্চ ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১২৪ জন

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করল যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের প্রত্যাখ্যান

ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’: ট্রাম্প
ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাঠানো উত্তেজনা কমানো ও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আগে পরাজয় মেনে নিয়ে নতি স্বীকার করতে হবে—তবেই শান্তি নিয়ে আলোচনা সম্ভব।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বৈদেশিক নীতি বিষয়ক বৈঠকেই মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও প্রতিশোধমূলক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে আগে পরাজয় স্বীকার করতে হবে এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে—তবেই আলোচনার পথ উন্মুক্ত হবে।

জানা গেছে, অন্তত দুটি দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ শান্তি প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছিল। এক সপ্তাহেরও বেশি আগে ধর্মীয় পরিষদের মাধ্যমে বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হওয়া মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়ে এখনো রহস্য রয়ে গেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো নতুন ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি।

কিছু ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিনি সামান্য আঘাত পেয়েছিলেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন মোজতবা খামেনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এই ধোঁয়াশার মধ্যেই তার এই আপসহীন বার্তা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

এর জেরে পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ যৌথ সামরিক অভিযানে প্রথম ধাক্কাতেই প্রাণ হারান ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবার। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও।

এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও। ১৮ দিন ধরে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন ইরানে।

Facebook Comments Box

No tags found for this post.

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আজ থেকে বঙ্গভবনে অফিস করবেন

কাউন্সিলর একরামুল হত্যাঃ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ সেনা হেফাজতে

হজের নিবন্ধন শুরু, আবেদন করতে পারবেন না যারা

শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের দুই মামলার বিচার শুরু আজ

সংবিধান সংস্কারে অগ্রগতি না হলে রাজপথে নামবে এনসিপি

তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

মহেশপুর সীমান্তে ৬ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা

শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকার দোকান ও মার্কেট বন্ধ

ভারতীয়দের ভিসা-সুবিধা প্রত্যাহার করল চার দেশ

১০

দিল্লিতে সিজেপি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের আনুষ্ঠানিক বৈঠক

১১

নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই দেশে ফিরলেন স্পিকার

১২

মোদি সরকারের আশ্বাসে ২৬ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনাম ওয়াংচুক

১৩

স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি,

১৪

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নির্বাচিত

১৫

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মোদির আমন্ত্রণ

১৬

আল-আকসা প্রাঙ্গণে ১,৩০০-এর বেশি ইসরায়েলি প্রবেশ

১৭

ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানালেন সালমান খান

১৮

যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর

১৯

পোশাক শিল্পের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

২০