জিয়া হত্যা: ফরেনসিক বিশ্লেষণে যেভাবে শনাক্ত হন পলাতক মেজর মোজাফফর। জিয়া হত্যার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মুঠোফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ থেকেই ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে শনাক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পায় তদন্ত সংস্থা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে মাসুদ উদ্দিনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) ও মুঠোফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হয়। এতে বনানী ও মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে কয়েকটি সন্দেহজনক নম্বরের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। তবে নম্বরগুলো ভুয়া পরিচয়ে নিবন্ধিত থাকায় ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না।
পরে সন্দেহজনক নম্বরগুলো পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হলে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তদন্তের মাধ্যমে নম্বরগুলোর ব্যবহারকারী হিসেবে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের পরিচয় নিশ্চিত হয়।
গত বুধবার রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন তাঁকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ডিএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মোজাফফর আত্মগোপনে ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, তদন্তে সন্দেহজনক নম্বরের সূত্র মিললেও মোজাফফরকে শনাক্ত করার মূল কাজটি পুলিশের প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মেজর মোজাফফর পলাতক ছিলেন। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন