
জাতীয় সংসদে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশ সংশোধন করে একটি বিল পাস হয়েছে, যেখানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে উল্লেখিত কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বিলটি উত্থাপন করেন এবং পরে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
বিলে উল্লেখ থাকা দলগুলোর মধ্যে মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল থাকায় সংসদে এ নিয়ে আলোচনা ও মতবিরোধ দেখা যায়। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এ বিষয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলকে সরাসরি সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত এবং এটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের সহযোগী জামায়াতের নাম বহাল রেখে বিল পাস
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই বিলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
সংসদের একটি বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে পাসের সুপারিশ করে। এই প্রেক্ষাপটেই জামুকা সংশোধনী বিলটি সংসদে উপস্থাপিত হয়।
জামায়াত নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বলেন, যদি বিলটি বর্তমান রূপেই পাস হয়, তবে বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা অব্যাহত থাকবে, যা তাদের মতে বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তারা আরও দাবি করেন, ২০০২ সালের আইনে এ ধরনের উল্লেখ ছিল না এবং বর্তমান সংজ্ঞাগুলো পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
মন্তব্য করুন