মানবিক চিন্তা ও বুদ্ধি অনেক সময় আল্লাহর কুদরতের সীমাহীন ব্যাপ্তিকে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়। আল্লাহ তাআলা চাইলে নীরব বস্তুতে বাকশক্তি দান করতে পারেন, নির্বাক প্রাণীকেও সত্য উচ্চারণের শক্তি দিতে পারেন। মহানবী (সা.) -এর যুগে এমন বহু অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে, যা মানুষের উপলব্ধির সীমাকে অতিক্রম করে। তবু তাতে নিহিত আছে সৃষ্টিকর্তার একক ক্ষমতার সাক্ষ্য।
নিম্নের হাদিসটি সেই বাস্তবতারই এক বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত-
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাজ শেষে উপস্থিত সাহাবীদের দিকে ঘুরে বসে বললেন, একদা এক ব্যক্তি একটি গরু হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ সে এর পিঠে চড়ে বসলে এবং একে প্রহার করতে লাগল।
তখন গরুটি বলল, আমাদেরকে এ কাজের (বোঝা বহনের) জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, আমাদেরকে চাষাবাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এ কথা শুনে (উপস্থিত) লোকজন বলে উঠল, সুবহানাল্লাহ! গরুও কথা বলে?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এবং আবুবকর ও উমর এটা বিশ্বাস করি।
অথচ তখন তাঁরা উভয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এক রাখাল একদিন তার ছাগলপালের মাঝে অবস্থান করছিল। এমন সময় একটি চিতাবাঘ পালে ঢুকে একটি ছাগল নিয়ে যায়। রাখাল বাঘের পেছনে ধাওয়া করে ছাগলটি উদ্ধার করে।
তখন বাঘটি বলল, তুমি ছাগলটি আমার থেকে কেড়ে নিলে বটে তবে ঐদিন কে ছাগল রক্ষা করবে— যেদিন হিংস্র জন্তু ওদের ওপর আক্রমণ করবে এবং আমি ছাড়া তাদের অন্য কোনো রাখাল থাকবে না।
উপস্থিত লোকেরা বলল, সুবহানাল্লাহ! চিতাবাঘ কথা বলে!
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এবং আবুবকর ও উমর এটা বিশ্বাস করি। অথচ তখন তাঁরা উভয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। (বুখারি, হাদিস: ৩৮০৩)
আল্লাহ তা‘আলার কুদরত কোনো উপকরণের মুখাপেক্ষী নয়। তিনি কোনো কাজ করার জন্য প্রাকৃতিক নিয়মের অধীন নন।
তিনি ইচ্ছা করলে মুহূর্তে একজন বাকপটু ব্যক্তির বাকশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন, ইচ্ছে করলেই অবুঝ প্রাণী দিয়েও কথা বলাতে পারেন। যেমন সুরা নামলের ১৮নং আয়াত থেকে ২৮নং আয়াত পর্যন্ত সুলাইমান (আ.)-এর পিপীলিকা ও হুদহুদ পাখির সঙ্গে কথোপকথনের ঘটনা উল্লেখ রয়েছে। সুরা নামলের ৮২নং আয়াতে একটি প্রাণীর বর্ণনা রয়েছে যা মানুষের সঙ্গে কথা বলবে।
হাদিসের বাক্য “আমি এবং আবুবকর ও উমর এটা বিশ্বাস করি অথচ তখন তাঁরা উভয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।” এর দ্বারা তাদের দুজনের মর্যাদা বোঝানো হয়েছে। কেননা তাঁরা নির্দ্বিধায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সব কথা বিশ্বাস করতেন।
মন্তব্য করুন