
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশে অর্জিত সম্পদ ও অর্থপাচারের অভিযোগে নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী শিকলবাহা এলাকার সিকদার বাড়িতে অভিযানে চালিয়ে দুদক ২৩ বস্তা আলামত জব্দ করেছে। বস্তাগুলোতে বিদেশে সম্পদ ক্রয়সংক্রান্ত নথি, ভাড়া আদায়ের তথ্য, বিল পরিশোধ এবং আদালতের আদেশসংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মশিউর রহমান জানান, জাবেদের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী উৎপল পাল ও আব্দুল আজিজকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে এ অভিযান চালানো হয়। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর দুদকের দল তাদের গ্রেপ্তার করে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
আরও পড়ুন:
গ্রেপ্তার হওয়া উৎপল পাল দীর্ঘদিন ধরে জাবেদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে বিদেশে সম্পদ কেনাবেচার কাজ দেখাশোনা করতেন। তিনি আরামিট গ্রুপের এজিএম হলেও মূলত বিদেশে অর্থপাচারের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করতেন। তার কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে, যেগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য মিলেছে বলে দুদক জানিয়েছে। অন্যদিকে আব্দুল আজিজ আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের এজিএম হিসেবে জাবেদের সম্পত্তি ভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।
মামলার সূত্রপাত গত ২৪ জুলাই, তখন দুদক উপ-পরিচালক মশিউর রহমান বাদী হয়ে সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ ৩১ জনকে আসামি করে মামলা করেন। সেই মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের কর্মচারীদের নামে পাঁচটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রাম বন্দর শাখা থেকে গম, ছোলা, হলুদ ও মটর আমদানির নামে ২৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করানো হয়। ব্যাংকের নিজস্ব ‘ক্রেডিট কমিটি’ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও পরিচালনা পর্ষদ ২০২০ সালের ৮ মার্চ ঋণ অনুমোদন করে। পরে এসব টাকা ভাগ করে বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর ও নগদে উত্তোলনের মাধ্যমে পাচার করা হয়।
দুদক জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ২৩ বস্তা আলামতের বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আদালতের অনুমতিও চাওয়া হবে।
সূত্র-ফেয়ার নিউজ
মন্তব্য করুন