কোয়ার্টার ফাইনালে (শেষ আট) ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর মধ্যে যেকোনো এক দল। নকআউট পর্বের টিকিট কাটতে ডিআর কঙ্গোকে হারিয়েছে ইংল্যান্ড, আর ইকুয়েডরকে বিদায় করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো।
এবারের বিশ্বকাপে ইংলিশরা এখন পর্যন্ত অপরাজিত। শেষ ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে শুরুতে গোল হজম করেও শেষ ১৫ মিনিটের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় তারা। দলের প্রধান তারকা হ্যারি কেইন ৪ ম্যাচে ৫ গোল করে রয়েছেন বিধ্বংসী ফর্মে। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো রক্ষণভাগে দেখিয়েছে অসামান্য দেয়াল; চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো গোলই হজম করেনি তারা। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে যে দলই আসুক না কেন, ব্রাজিলকে তাদের সেরা ফুটবল খেলেই জিততে হবে।
ব্রাজিল যদি কোয়ার্টার ফাইনালের বাধাও পার হতে পারে, তবে সেমিফাইনালে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা, লাতিন পরাশক্তি কলম্বিয়া কিংবা ইউরোপের শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সবার আগে ভাঙতে হবে ‘নরওয়েলিস’ গেরো
সেমিফাইনাল বা কোয়ার্টার ফাইনালের হিসাব নিকাশ পরের কথা, ব্রাজিলের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নরওয়ে। আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে এবার বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লিখতে মুখিয়ে আছে। তাছাড়া অতীত ইতিহাসও ব্রাজিলের পক্ষে কথা বলছে না। ফুটবল বিশ্বে ব্রাজিল পরাশক্তি হলেও, এখন পর্যন্ত নরওয়েকে কখনোই হারাতে পারেনি তারা।
চারবারের দেখায় নরওয়ের জয় ২টি, বাকি ২টি ম্যাচ হয়েছে ড্র।
ফুটবলপ্রেমীদের মনে থাকার কথা ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচের কথা। স্তাদ ভেলোড্রোমে গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে রোনালদো, রিভালদো, কাফুদের নিয়ে গড়া মারিও জাগালোর শক্তিশালী ব্রাজিলকে ২-১ গোলে স্তব্ধ করে দিয়েছিল নরওয়ে।
এর আগে ১৯৮৮ এবং ১৯৯৭ সালের প্রীতি ম্যাচেও একবার জিতেছিল নরওয়ে, অন্যটি হয়েছিল ড্র। এমনকি ২০০৬ সালের সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচটিও শেষ হয় ১-১ সমতায়। অর্থাৎ, সেলেসাওদের বিপক্ষে এখনো অপরাজিত নরওয়েজিয়ানরা। এবার শেষ ষোলোর মঞ্চে ব্রাজিল কি পারবে তাদের এই ঐতিহাসিক গেরো ছুটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটতে? উত্তর মিলবে ৫ জুলাই।
মন্তব্য করুন