
আজ ঐতিহাসিক মিরপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭২ সালের এই দিনে রাজধানীর মিরপুর এলাকা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী সশস্ত্র বিহারি গোষ্ঠীর কবল থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলেও মিরপুর তখনও শত্রুমুক্ত হয়নি। দীর্ঘ দেড় মাস পর সম্মিলিত অভিযানের মাধ্যমে এই এলাকা মুক্ত করা সম্ভব হয়।
স্বাধীনতার পর মিরপুর এলাকায় অবস্থান নেওয়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য ও তাদের সহযোগী অবাঙালি বিহারি গোষ্ঠী আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানায়। তারা এলাকাটিকে কার্যত একটি সশস্ত্র ঘাঁটিতে পরিণত করে এবং বাঙালিদের ওপর সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে থাকে। ফলে রাজধানীর ভেতরেই একটি শত্রু নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি ভোরে মুক্তিযোদ্ধা, নবগঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনী যৌথভাবে মিরপুরে অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী তীব্র সংঘর্ষের পর শত্রুপক্ষ পরাজিত হয় এবং মিরপুর এলাকা সম্পূর্ণভাবে শত্রুমুক্ত হয়।
এই অভিযানে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা স্বাধীন বাংলাদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এই অভিযানে শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন সংগঠন প্রতি বছর শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকে।
মিরপুর মুক্ত দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি প্রমাণ করে যে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও বিজয়ের পরও দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে সশস্ত্র সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হয়েছিল।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বক্তারা বলেন, মিরপুর মুক্ত দিবস নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন