
খাবারের রসনা জগৎ নানা বৈচিত্র্যে ভরপুর। কোথাও পাতে ওঠে মসলাদার মাংস, কোথাও সাগরজ পদের বাহার। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে এমন কিছু খাবারও রয়েছে, যা অনেকের কাছে অদ্ভুত কিংবা জঘন্য মনে হতে পারে। অথচ স্থানীয় সংস্কৃতিতে সেসব পদ প্রিয় খাদ্য হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পৃথিবীর প্রায় ২০০ কোটি মানুষ তাদের নিয়মিত খাবারের তালিকায় পোকামাকড় রাখেন। খাওয়া যায় এমন পোকামাকড়ের প্রজাতির সংখ্যা ১ হাজার ৯০০টির বেশি। এ কারণে বিশ্বের নানা প্রান্তে কীটপতঙ্গ ও অদ্ভুত উপাদানে তৈরি খাবার একেক সমাজে আলাদা রকমের কৌতূহল তৈরি করে।
কম্বোডিয়ায় রাস্তায় হাঁটলে সহজেই চোখে পড়বে মচমচে ভাজা ট্যারান্টুলাস। দারিদ্র্য থেকে শুরু হলেও এখন এটি জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুডে পরিণত হয়েছে। ফিলিপাইনে হাঁসের নিষিক্ত ডিম ‘বালুট’ সেদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার। খোলস ভেঙে তরল অংশ গিলে নেওয়ার পর ভ্রূণসহ ডিমটি খাওয়াই নিয়ম।
কানাডার মানুষ খান হরিণের নাক। মুস নামের হরিণের নাক সেদ্ধ করে, পরিষ্কার করে ও মসলা মাখিয়ে রান্না করা হয়। মঙ্গোলিয়ায় ঘোড়ার দুধ পচিয়ে ‘আইরাগ’ নামে এক ধরনের পানীয় তৈরি করা হয়, যা স্থানীয়দের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়।
জাপানের খাবারের তালিকায় আছে টুনা মাছের চোখ। সয়া সস দিয়ে ভাপানো এই পদটির দাম রেস্তোরাঁয় বেশ চড়া। অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলের ইনুইটরা তিমির চামড়া ও চর্বি দিয়ে তৈরি ‘মুকটুক’ কাঁচা অবস্থায় খান। এতে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ উপাদান থাকায় এটি তাদের ঐতিহ্যগত খাবারে পরিণত হয়েছে।
বিশ্বের এই অদ্ভুত খাবারগুলো কারও কাছে ‘জঘন্য’, আবার কারও কাছে ‘রসনাতৃপ্তির ভোজ’। শেষ পর্যন্ত খাদ্যের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে সংস্কৃতি, প্রয়োজন ও অভ্যাসের ওপর।
মন্তব্য করুন