
মিয়ানমারের রাখাইনে সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বহুদিন ধরেই চলছে। সাম্প্রতিক কয়েকদিন থেকে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ বাংলাদেশের টেকনাফের হোয়াইক্যং অঞ্চলে খুব কাছাকাছি শোনা যাচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশি সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে।
রোববার (১০ জানুয়ারি) সকালে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর গুলিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একজন কিশোরী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ আরাকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনী ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলছে। সেখান থেকে আসা গুলি বাংলাদেশী কিশোরীর গায়ে এসে লাগে। এসময় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে গুলিবিদ্ধ কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা গেছে কিশোরটি বেঁচে আছে তবে তার অবস্থা আশংকাজনক। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে নাফ নদীর হোয়াইক্যং অংশে মাছ ধরার সময় মো. আলমগীর (৩০) নামে এক বাংলাদেশি জেলে গুলিবিদ্ধ হন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার দায়ভার অদক্ষ সীমান্ত পরিস্থিতির প্রতি অভিমুখ রেখে সরকারের পক্ষ থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং বসতঘর অঞ্চলে গোলা-বারুদ ঢোকা রোধ করতে আঞ্চলিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছে যাতে ভবিষ্যতে সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলির কারণে আর কোনো নিরীহ প্রাণহানি না ঘটে।
মন্তব্য করুন