দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়েছে। জেটিতে পণ্য ওঠানামা, ইয়ার্ড থেকে কার্গো ডেলিভারি, বন্দর দিয়ে জাহাজের আগমন ও বহির্গমন—সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে গত ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকাল থেকে শ্রমিক ও কর্মচারীরা আন্দোলন শুরু করেছেন। এ অবস্থায় মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত বন্দরের জেটি ও ইয়ার্ড জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করেই সরকার চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই। সরকার চুক্তি বাতিল না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।”
আজ জোয়ারের সময় বন্দরের ছয়টি জাহাজ ছাড়ার কথা থাকলেও কোনো জাহাজই চলাচল করতে পারেনি। বহির্নোঙর থেকে আটটি জাহাজ জেটিতে ভেড়ার সূচি থাকলেও বাস্তবে কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। বিভিন্ন শিপিং এজেন্ট ও ফিডার অপারেটরের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার পাইলটেজ কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আজ সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা নির্ধারিত জেটিতে অবস্থান নিয়ে টাগবোট, পাইলট বোট ও মুরিং বোটসহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিক নৌযানের নোঙর ঠেকিয়ে দেন। ফলে জাহাজ পরিচালনার সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ১০টা থেকে জোয়ার শুরু হলেও পাইলট কন্ট্রোল রুমে থাকা সকল কর্মকর্তা কাজ শুরু করতে পারেননি।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব মো. রুহুল আমিন শিকদার জানান, দেশের ১৯টি বেসরকারি ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোতে (আইসিডি) আমদানি, রপ্তানি ও খালি কন্টেইনার পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বন্দর ইয়ার্ডের ডেলিভারি পয়েন্টগুলোও ফাঁকা থাকায় কন্টেইনার জট ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বার্থ অপারেটরস, শিপ-হ্যান্ডলিং অপারেটরস ও টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, “এভাবে পুরো বন্দর অচল হয়ে যাওয়া নজিরবিহীন। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান জরুরি।”
মন্তব্য করুন