হাড়ক্ষয় রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। কেননা পুষ্টিহীনতা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এবং গড় আয়ু বৃদ্ধির সঙ্গে এ রোগের প্রবণতা বাড়ছে। ফলে মানুষের কর্মক্ষমতা কমছে। বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবসের সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘হাড়ের স্বাস্থ্যের অবহেলা অগ্রহণযোগ্য’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের উদ্যোগে অস্টিওপোরোসিস দিবস পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে সোমবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় ট্রমাটোলজি ও অর্থোপেডিক পুনর্বাসন ইনস্টিটিউটের (নিটোর) সামনে র্যালি বের করা হয়। এর আগে নিটোর হলরুমে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে হাড়ক্ষয় রোগ বা অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। পুষ্টিহীনতা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এবং গড় আয়ু বৃদ্ধির সঙ্গে এ রোগের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ বর্তমানে হাড়ক্ষয়জনিত জটিলতায় ভুগছেন, যার মধ্যে ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে নারী ও পুরুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে পুরুষদের তুলনায় নারীরাই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বক্তারা বলেন, ‘নীরব ঘাতক’ এ রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো উপসর্গ দেখা যায় না, যতক্ষণ না হাড় ভেঙে যায়। তাই সময়মতো সচেতনতা ও চিকিৎসা গ্রহণই একমাত্র প্রতিরোধের উপায়। প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সরাসরি রোদে থাকা উচিত, যাতে শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি হয়। পাশাপাশি সুষম খাদ্য ও অন্যান্য আমিষ জাতীয় খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে সচেতন জীবনধারা অনুসরণ ও সময়মতো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে অস্টিওপোরোসিসজনিত ক্ষতি অনেকাংশেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নিটোর পরিচালক প্রফেসর ডা. মো. আবুল কেনান। বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিটোর রেজিস্ট্রার ডা. মো. সাইদুর রহমান ও ডা. মো. রাজিব মাহমুদ।
আরও পড়ুন
উপস্থিত ছিলেন- অধ্যাপক ডা. মো. কামরুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. জিএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ওয়াকিল আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. তাজুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. জহির-উল ইসলাম।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন—রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্র্যান্ড ম্যানেজার মো. মামুনুর রশিদ, ব্র্যান্ড ম্যানেজার মোহসিনা মাহমুদ, ব্র্যান্ড এক্সিকিউটিভ নাসির আহমেদ কাকন, সেলস ম্যানেজার মো. আশরাফুল হক, সেলস ম্যানেজার মো. জাহিদুল ইসলাম, সিনিয়র জোনাল ম্যানেজার মো. জাহিদ হোসেন, জোনাল ম্যানেজার মো. আতিকুর রহমান, জোনাল ম্যানেজার চঞ্চল কুমার সরকার, রিজিওনাল ম্যানেজার মো. শাহাজাদা শাহিনুর ইসলাম ও রিজিওনাল এক্সিকিউটিভ মো. জহুরুলল হক।
মন্তব্য করুন